ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৮ ও ৯ আসনে কোনো সহিংসতা ছাড়াই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুটি আসনের কিছু কেন্দ্রে ভোরের দিকে ধানের শীষের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট দেখা গেলেও সকাল ১০টার পর বেশিরভাগ কেন্দ্রে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিছু কেন্দ্রে বাইরে লম্বা লাইন দেখা গেলেও ভেতরে ভোটগ্রহণ ছিল খুবই ধীরগতির। দুপুরের পর ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে অনেক কেন্দ্র।
মতিঝিলের টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদুল্লাহ হল, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টার, পল্টন কমিউনিটি সেন্টার, পুরানা পল্টন গার্লস কলেজ, বেগম রহিমা স্কুলসহ অনেক কেন্দ্র দুপুরের পর প্রায় ভোটারশূন্য ও ফাঁকা দেখা গেছে। এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসাররা বলেন, সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি বেশি থাকায় দুপুরের পর কিছু ফাঁকা ছিল। তাই ভোটগ্রহণের হার ভালো ছিল।
ঢাকা-৮ আসনে (মতিঝিল, শাহবাগ ও রমনা) ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। গতকাল দুপুরে শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান বিএনপি প্রার্থী। কিন্তু তিনি ভোট না দিয়ে বের হয়ে আসেন। বাইরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, এখানে সাধারণ জনগণ ভোট দিতে পারছে না। ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। একই কেন্দ্রের ভোটার তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও ভোট দেননি। আফরোজা আব্বাস ঢাকা-৯ আসনে (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন।
নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেনন সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। দুপুরে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আশা অনুযায়ী সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে। তাই নৌকার বিজয় নিশ্চিত।’
এদিকে ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী গতকাল সকালে খিলগাঁও গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। আশা করছি শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা বিরাজ করবে। জনগণ আমাদের পাশে আছে। আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হব।’
দেখা যায়নি ধানের শীষের এজেন্ট : ভোটগ্রহণ শুরুর পর পল্টনের আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টার, পুরানা পল্টন গার্লস কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ধানের শীষের এজেন্ট দেখা যায়। কিন্তু সকাল ১০টার পর আর কোনো এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে টিঅ্যান্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের নারী বুথের এজেন্ট মমতাজ বেগম (৩৫) বলেন, এজেন্টরা আসতে ভয় পায়। নৌকার সমর্থকরা নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে। তাই তারা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গেছেন। একই তথ্য জানালেন আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রের এজেন্ট মো. নিপু (৩৮)।
ধানের শীষের এজেন্ট না থাকা প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মুশিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সকালেই তাদের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু তাদের কেউ আসেনি।’
ঢাকা-৮ আসনে ১৪ জন প্রার্থী থাকলেও কেন্দ্রগুলোতে শুধু নৌকা ও টেলিভিশন মার্কার এজেন্ট দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল কেন্দ্রের টেলিভিশনের এজেন্ট রেশমা আক্তার বলেন, তারা মূলত নৌকার সহযোগী এজেন্ট হিসেবে আছেন।
