বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তীব্র শীতে বিপাকে চুয়াডাঙ্গার খেটে-খাওয়া মানুষ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:০৬ পিএম

মধ্য পৌষে চুয়াডাঙ্গায় আঘাত হেনেছে তীব্র শীত। শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। দিনের অধিকাংশ সময় ঘন কুয়াশাতে ঢাকা থাকছে আকাশ। উত্তরের ঠান্ডা বাতাস সেই শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুণ। প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রার পারদ।

কনকনে শীত আর তীব্র হাওয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার ছিন্নমূল মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

image

গত এক সপ্তাহ ধরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রতিদিনই তাপমাত্রার পারদ নিচে নামতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে এ জনপদে ৬.৭ ডিগ্রি নিচে নেমেছে তাপমাত্রা। এ কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো। দিনের অধিকাংশ সময়ই ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে আকাশ। একই সাথে মেঘাচ্ছন্ন ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না।

image

ছিন্নমূল মানুষগুলো গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছেন। খড়কুটোর আগুনই একমাত্র ভরসা তাদের।

এদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন। রাস্তায় বেরোতে পাচ্ছেন না কাজ।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, তিনি একজন মাটি কাটা শ্রমিক। গত তিন দিনে তিনি শহরে এসে কোনো কাজ পাননি। কনকনে শীতই কাজ না পাওয়ার কারণ বলে জানান তিনি।

একই কথা জানালেন সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের দিনমজুর সবদুল মন্ডল।

image

তিনি বলেন, শীতের কারণে কোনো মহাজনই কাজ করাতে চাইছেন না। এতে করে কাজ না পেয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে মৃদু শৈতপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। প্রতিদিনই প্রায় অর্ধশত নতুন রোগী নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়াসহ শ্বাসকষ্ট জনিতরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সামাদুল হক জানান, এবার একটু দেরিতে শীত এসেছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। যদিও বুধবার রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ ছিল। তারপরও কনকনে ঠান্ডা বাতাস অব্যাহত থাকায় তাপমাত্রার সুফল পাচ্ছে না মানুষ।

image

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, গত বছরের কিছু শীতবস্ত্র আমাদের গুদামে ছিল। চলতি মৌসুমেও ঢাকা থেকে কয়েক হাজার শীতবস্ত্র এসেছে। কিছু বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে পুরোপুরি বিতরণ করা হয়নি। দুয়েক দিনের মধ্যেই জেলার ছিন্নমূল মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত