একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র দুটি আসনে জয় পেয়েছে। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে জয় পেয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে।
সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান ভোট জিতে পড়েছেন নতুন বিড়ম্বনায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা দিয়েছে তাদের জোট থেকে বিজয়ী সাংসদরা শপথ নেবেন না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সুলতান ও মোকাব্বির শপথ নেননি। এ অবস্থায় তাদের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের একাধিক সমর্থক দেশ রূপান্তরের কাছে এই হতাশার কথা ব্যক্ত করে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে, হয়রানি-নির্যাতন সহ্য করে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছি। এখন শপথ না নিলে কী হবে বুঝতে পারছি না।’
পাশাপাশি তাদের নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনাও চলছে। কেউ কেউ বলছেন, এরা দলবদল করে সরকার দলীয় জোটের দিকে ভিড়তে পারেন। অবশ্য সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান দুজনই এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এমনটি করার প্রশ্নই আসে না।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই কোনো প্রার্থী ছিলেন না। নির্বাচন সামনে রেখে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর হন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। শুরুতে তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে। তবে ঐক্য প্রক্রিয়া অনিবন্ধিত দল হওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনি গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নে তিনি ধানের শীষ প্রতীক পান।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা এমএম শাহীন নির্বাচনের কিছুদিন আগে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন পাচ্ছেন না বুঝতে পেরে বিকল্পধারায় যোগ দেন। পরে বিকল্পধারা মহাজোটে যোগ দিলে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে সুলতান মনসুর ও এমএম শাহীনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। মাত্র আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন সুলতান মনসুর। নির্বাচনে কুলাউড়ার বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সুলতানের পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করেন।
ওই সময় বিএনপি-জামায়াতের অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, অনেকের নামে মামলা হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই সুলতান মনসুরও বলেছেন, গ্রেপ্তার নেতাকর্মীর মুক্তির পর হবে আনন্দ সভা।
শপথ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে সুলতান মনসুর বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই তিনি অগ্রসর হবেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, শপথ গ্রহণের জন্য আরো সময়ও হাতে আছে।
সিলেট-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রথমে প্রার্থী হয়েছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি ছাড়ার পর যে সময়সীমা পার হওয়ার কথা সেটা হয়নি। এ কারণে উচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। এরপর গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি মহাজোটের প্রার্থী জাপার ইয়াহইয়া চৌধুরীর সঙ্গে ভোটে লড়েন। অবশ্য নির্বাচনের ফলাফলে মহাজোট প্রার্থী হয়েছেন চতুর্থ। মোকাব্বির খানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান।
শপথ প্রসঙ্গে মোকাব্বির খান গত বুধবার জানান, গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্ট যে সিদ্ধান্ত দেবে তিনি সেটাই মেনে চলবেন। তিনি এও বলেন, দলবদলের প্রশ্নই উঠে না।
