মাশরাফীদের কাছে পাত্তাই পেল না কুমিল্লা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৮:২১ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মুখোমুখি রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আসরের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবারের এই ম্যাচটি। কিন্তু সবচেয়ে তারকা সমৃদ্ধ দুই দলের ম্যাচটা হয়ে থাকল একেবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে। আসলে এক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার পারফরম্যান্সের কাছে একঝাঁক তারকায় ঠাসা কুমিল্লা উড়ে গেল এদিন।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। মাশরাফীর ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬৩ রানে গুটিয়ে যায় কুমিল্লা। সেই রান ৮ ওভার ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর।

আগের দুই ম্যাচে টস হারলেও এদিন ভাগ্য পরীক্ষায় জেতেন মাশরাফী। বেছে নেন বোলিং। সিদ্ধান্তটা সঠিক প্রমাণ করতে নিজেই এগিয়ে এলেন। ৩৫ বছর বয়সে ছাড়িয়ে গেলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের করা আগের সব পারফরম্যান্সকে। ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। সব ধরনের টি-টোয়েন্টিতে যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।

মাশরাফী তোপে মাত্র ১৮ রানে ৫ উইকেট হারায় কুমিল্লা। এরপর আর দাঁড়াতে পারেনি দলটি। শহীদ আফ্রিদি ১৮ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ২৫ রান করলেন। বাকিদের কেউই ছুঁতে পারলেন না দুই অঙ্কের স্কোর। তাতে কুমিল্লাকে আসরে নিজেদের সর্বনিম্ন রানে অল আউট হওয়ার লজ্জায় পুড়তে হয়।

৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪ রানে গেইলের উইকেট হারায় রংপুর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের অনাপত্তিপত্র না আসায় প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি গেইল। এদিন মাঠে নেমে মাত্র ১ রান করেই ফেরেন আবু হায়দার রনির বলে।

তবে আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফ তিনে নামা রাইলি রুশোকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন। তাতে টানা দ্বিতীয় জয় পায় রংপুর। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই হারের মুখ দেখতে হলো কুমিল্লাকে।

প্রথম ৭ ওভারেই গড়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। রংপুরের বোলিং উদ্বোধন করেন মাশরাফী নিজেই। এক স্পেলেই ৪ ওভারের কোটা শেষ করেন। ৪ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার এরকম- ৪-১-১১-৪। একে একে মাশরাফীর শিকার হন তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, এভিন লুইস ও স্টিভ স্মিথ।

মাশরাফী প্রথম উইকেটের দেখা পান নিজের দ্বিতীয় ও দলীয় তৃতীয় ওভার করতে এসে। তুলে নেন তামিম ইকবালের উইকেট। ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে ১০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন তামিম।

পরের ওভারে মাশরাফী তুলে নেন ইমরুল কায়েস ও এভিন লুইসকে। ইমরুল ২ রান করে রবি বোপারার হাতে ক্যাচ দেন। ক্যারিবিয়ান তারকা লুইস ৮ রান করে ক্যাচ দেন নাজমুল ইসলাম অপুকে।

দলীয় সপ্তম ও নিজের চতুর্থ ও শেষ ওভার করতে এসে মাশরাফী শিকার বানান স্টিভ স্মিথকে। মিড অফে ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচ হন কুমিল্লা অধিনায়ক। ৫ বল খেলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। মাঝে শোয়েব মালিককে ফেরান শফিউল, নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই। ৩ উইকেট নিয়ে কুমিল্লার লেজের উইকেট গুঁড়িয়ে দেন নাজমুল ইসলাম অপু। মাশরাফী ৪, নাজমুল ৩, শফিউল ২ ও ফরহাদ রেজা নেন ১ উইকেট।

গত আসরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। বৃষ্টি বিঘ্নিত বিতর্কিত ম্যাচটিতে কুমিল্লাকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে রংপুর। এবার দুই দল মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে এসেছে বারবার। কিন্তু এক মাশরাফীর পারফরম্যান্সের কাছেই সব ম্লান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ৬৩ (১৬.২ ওভার) (তামিম ৪, লুইস ৮, স্মিথ ০, আফ্রিদি ২৫; মাশরাফী ৪/১১, শফিউল ২/৮, অপু ৩/২০, রেজা ১/১১)।

রংপুর রাইডার্স : ৬৭/১ (১২ ওভার) (গেইল ১, মেহেদী মারুফ ৩৬*, রুশো ২০*; হায়দার ১/১১)।

ফল : রংপুর ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত