৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে রাজধানীর জোয়ার সাহারা ডিপোতে তালা দিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করেছে বিআরটিসির চালক ও শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার এ ডিপো থেকে কোনো বাস চলাচল করেনি। সকাল থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিপোতে গিয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েও সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন।
বিআরটিসির জোয়ার সাহারা ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. নূর আলম বলেন, চালক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিন সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বেতনভাতা পরিশোধসহ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে তারা বিক্ষোভ করে। তিনি জানান, এই ডিপো থেকে টঙ্গী-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল, কুড়িল বিশ্বরোড-পাঁচদোনা রুটের একতলা ও দোতলা বাস চলাচল করে। এছাড়াও সরকারি বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের স্টাফ বাস রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে এসব বাস বন্ধ ছিল।
আন্দোলনকারী বাসচালক আবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৯ মাসের বেতন বকেয়া। আমাদের কয়েক দফায় আশ্বাস দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সব বেতন দেওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। চালকরা জানান, জোয়ার সাহারা ডিপো থেকে একতলা, দোতলা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিলিয়ে ১২০টি বাস চলে। এসব গাড়ির আয় দিয়েই বেতনভাতা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটির কয়েক বছর ধরে টানা লোকসানের কারণে প্রায় ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারীর বেতনভাতা বকেয়া পড়েছে।
ধর্মঘটের খবর পেয়ে বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (অর্থ) ড. নাসিম হোসাইন এবং পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল মাহবুবুর রহমান সকালে জোয়ার সাহারা ডিপোতে যান। তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ডিপোর ব্যবস্থাপক নূর ই আলম দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দিতে বলেন এবং কাজে যোগ না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের সব বেতনভাতা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, চালক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেই মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন।
বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরপরও কর্মবিরতি চালিয়ে গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
সারা দেশে বিআরটিসির ২২টি ডিপো আছে। এর মধ্যে ঢাকায় ডিপো ছয়টি। এসব ডিপোতে প্রায় তিন হাজার চালক, টেকনিশিয়ান, অফিস সহকারী এবং নিরাপত্তারক্ষী কাজ করে। সরকারি বেতন স্কেলে তারা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। জোয়ার সাহারার মতো অন্যান্য ডিপোতে চালকদেরও বেতন বকেয়া আছে।
×
