মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বন্দ্বের কারণে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। ২৩ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় এরই মধ্যে আট লাখ ফেডারেল কর্মী বেতনহীন অবস্থায় কাজ করছে। এর আগে এত দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কখনো অচলাবস্থা চলেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ট্রাম্পের ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেমোক্র্যাটরা প্রত্যাখ্যান করলে দেশটিতে অচলাবস্থার শুরু হয়। ডেমোক্র্যাটদের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প সরকারি দপ্তরগুলোয় বাজেট বরাদ্দের বিলে স্বাক্ষর করেননি। ফলে এফবিআই এজেন্টরা, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকরা এবং জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেল শুক্রবারও কোনো বেতন পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে অচলাবস্থার সর্বোচ্চ মেয়াদকাল ছিল ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে ২১ দিন ধরে অচলাবস্থা চলে দেশটিতে। তখন ডেমোক্র্যাট এবং বিপাবলিকান শিবিরের যৌথ উদ্যোগে ওই অচলাবস্থার অবসান হয়।
গত শুক্রবার নিজের দেওয়া বেশ কিছু হুমকি থেকে পিছু হটেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে তিনি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে দেয়াল নির্মাণের হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমি এত জলদি জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছি না। কংগ্রেসকে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিতে দায়িত্বশীল হতে হবে। আর তারা এটা না করতে পারলে আমি জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করব। আমার সেই অধিকার রয়েছে।’
অবশ্য ট্রাম্পের এমন বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট এখনই জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করুন দেশে।’ তবে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, লড়াইটা শেষমেশ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ট্রাম্পবিরোধীরা বলছেন, সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া ট্রাম্পের সংবিধানবহির্ভূত কাজ হতে পারে। এতে প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে বিবিসির গতকাল শনিবারের এক প্রতিবেদনে অচলাবস্থার শিকার ভার্জিনিয়ার জন বয়েড নামের এক কৃষকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমার কোনো দেয়ালের প্রয়োজন নেই। আমি ফসল উৎপাদন করে অর্থ উপার্জন করতে চাই।’ সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ফেডারেল কর্মচারী জ্যাকুলিন ম্যালোনির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘আমি হাউস অব কংগ্রেস, আমেরিকার জনগণের কাছে দয়াভিক্ষা চাইছি। আমাদের দিকে তাকান, আমাদেরও মুখ আছে, পরিবার আছে। আমরাই হয়তো আপনার প্রতিবেশী, আপনার প্রিয় বন্ধু, প্রিয় বন্ধুর মা, ভাই-বোন। আমরাই সর্বত্র।’
ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় শিবিরই অন্তত এ বিষয়ে একমত, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। সীমান্তের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় এরই মধ্যে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেয়াল নির্মাণে নতুন করে বাজেট নিয়ে দুই শিবিরের এই দ্বন্দ্বকে বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক অহংকারের প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সূত্র : এএফপি।
