ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ‘দোষে’ কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন হাসপাতালের ছাদ ধস: শ্রমিক নিহত

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০৫ পিএম

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের ছাদ ধসে এক নির্মাণশ্রমিক নিহত ও ছয় শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই ছাদের ঢালাই চলার সময় ধসে পড়ে। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের হাসপাতালে এবং নিহত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।

নিহত ওই শ্রমিক হলেন- কুমারখালী উপজেলার চড়াইকোল গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান (৫৫)। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আছেন নিহত বজলুর রহমানের ছেলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র গালিব (২৩), শাহবুদ্দিন (৪২), পলান মন্ডল (৬০), একই উপজেলার কয়া গ্রামের সোহেল (২৫) এবং চড়াইকোল গ্রামের ইউনুস আলী (৫৫)।

ঘটনাস্থলে কর্মরত প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানায়, তিনতলার সমান উচ্চতার ওই ছাদ ঢালাইয়ের শেষের দিকে হঠাৎ সাটারিং ভেঙে ধসে পড়ে। তারা জানান, এ ধরনের ছাদ ঢালাইয়ে ঝুঁকিমুক্ত সাটারিং করতে যেসব সরঞ্জাম লাগে এখানে সেগুলি ব্যবহার না করা ও সাটার নির্মাণে কারিগরি ত্রুটি থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বলে অভিযোগ করেছে শ্রমিকরা।

 

নির্মাণ বাস্তবায়নকারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হান্নান জানান, নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রেখেছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ করে তারা কবে থেকে কাজ শুরু করেছেন  তা গণপূর্ত বিভাগ অবগত নয়। তা ছাড়া ঢালাই শুরুর  পূর্বে সাটারিং ঝুঁকিমুক্ত ছিল কি না সেগুলি পরীক্ষা না করেই ঢালাই শুরু করেছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. আশরাফুল ইসলাম দারা জানান, ত্রুটি ছিল বলেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শ্রমিক নিহত ও ছয় শ্রমিক আহতের বিষয় নিশ্চিত করে আহতদের হাসপাতালে ভর্তিসহ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৭দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত