শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় শিক্ষক-ইমামকে গাছে বেঁধে মারধর

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২২ পিএম

বাল্য বিবাহ বন্ধ করায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও এক মসজিদের ইমামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত মাদ্রাসা শিক্ষক তারিকুল মাওলা বুধবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে হাতিয়ার হরণি ইউনিয়নের পূর্ব রসুলপুর গ্রামের আহম্মদের বড়িতে। শুক্রবার এ ব্যাপারে হাতিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি নেয় বলে ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম জানিয়েছেন।

তারিকুল মাওলা হাতিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পূর্ব রসুলপুর গ্রামের দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক।

জানা গেছে, দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী পূর্ব রসুলপুর গ্রামের সাবের আহম্মদের ১৩ বছরের মেয়ে নাজমার সঙ্গে মঙ্গলবার পেশায় রাজমিস্ত্রি এক ছেলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক তারিকুল মাওলা সোমবার বিকেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন এবং বিষয়টি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)  জানান। নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মেয়েটির বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসা শিক্ষক তারকিুল মাওলা এবং স্থানীয় পূর্ব রসুলপুর জামে মসজিদের ইমাম মিনহাজুল ইসলাম হাতিয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে পূর্ব রসুলপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল কাদের, আবদুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ আলী মহব্বত, আবদুল জিলানীর ছেলে এনায়েত হোসেন বেচু, সমির উদ্দিন, বাবলু ও কালামসহ ১০/১২ জন তাদের উপর হামলা চালায়। তারা তাদেরকে ছাত্রী নাজমার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর হাত, লাঠি ও বড় বড় টর্চলাইট দিয়ে মারধর করে।

এ সময় তারা তারিকুল মাওলার কাছে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকা দামের একটি ও ৭ হাজার টাকা দামের আরেকটি মোবাইল সেট, ইসলামী ব্যাংকের একটি ভিসা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মাথার টুপি এবং  ইমাম মিনহাজুল ইসলামের ২টি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

হামলাকারীরা তারিকুল মাওলার কাছ থেকে জোরপূর্বক তিনটি স্ট্যাম্পে ও দুটি নীল কাগজে স্বাক্ষর নেয়। আহত শিক্ষক তারিকুল মাওলা বুধবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে মারধরের ঘটনা আমি জানতে পেরে তাদেরকে মামলা করতে বলেছি।

হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামের ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর আমি শুনেছি। তারা মামলা করতে এলে অবশ্যই আমি মামলা নিব।’

শিক্ষক তারিকুল মাওলা বলেন, ‘হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত