রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খালেদার মুক্তি দাবিতে তৃণমূলে তোপের মুখে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৩৮ পিএম

যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে রবিবার সকালে হামলার শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। তৃণমূল কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী করেন।  

কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. ওবায়দুল ইসলাম পরিদর্শক দলে ছিলেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দুই দিন আগে এ এলাকায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকালে জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের নিয়ে এ তিন নেতা ক্ষতিগ্রস্ত সেসব পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান।

প্রথমে তারা যান সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে।

সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য আমির হোসেনের বাড়িতে তারা কিছু সময় অতিবাহিত করেন ও বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় পার্শ্ববর্তী নরেন্দ্রপুর, রামনগর, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে হাজির হন।

কেন্দ্রের ব্যর্থতায় তৃণমূলে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ক্ষোভও প্রকাশ করতে থাকেন তারা।

নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিয়ার রহমান, একই ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন নিজেদের ক্ষোভের কথা নেতাদের জানান।

তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়া কবে মুক্তি পাবেন, কী করছেন আপনারা, আন্দোলনে যাচ্ছেন না কেন? না খেয়ে পালিয়ে থাকতে থাকতে তো এমনিতেই মরতে বসেছি। আন্দোলনের ডাক দেন, রাস্তায় গিয়ে মরি। আন্দোলনে আমরা তো ব্যর্থ হইনি, আপনারা (কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ করে) ব্যর্থ হয়েছেন’।

২৮ ডিসেম্বর রাতে হামলার ঘটনা বর্ণনায় বিএনপি নেতা আমির হোসেনের দুই ভাইয়ের স্ত্রী লিলিপা ইয়াসমিন ও পাপিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মহিলারা জীবনে গুলির শব্দ শুনিনি। ২৮ ডিসেম্বর রাতেই প্রথম শুনেছি। হামলা, ভাঙচুর, নির্যাতন অনেক সহ্য করছি। আমাদের শুধু বলেন, আমাদের মা কবে মুক্তি পাবে’।

এখান থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা একই গ্রামের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক খানের বাড়ি ও পরে লেবুতলা ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের বাড়ি যান। এ দুই নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের স্থান পরিদর্শন ও বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

পরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা কথা বললাম। তারা আবেগ থেকে অনেক কিছু বলেছেন। এসব কথা মূল্যহীন না। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেক কিছু চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়’।

তিনি বলেন, ‘তারপরও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কথাগুলো, ভাবনাগুলো আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের অবহিত করব’।

এর আগে সিলেটে নিহত এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ কর্মসূচি শুরু হয়। সিলেট সফরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত