রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে বিশৃঙ্খলা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৮ এএম

সুনামগঞ্জের ১০টি উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতি উপজেলায় অর্ধ ডজনের বেশি প্রার্থী হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলা নেতারা। এছাড়া উপজেলাকে ডিঙিয়ে জেলার নেতাদের কাছে জীবনবৃত্তান্ত দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলায় না গিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেতে জেলার দুই শীর্ষ নেতার কাছে ধরনা দিতে ঢাকায় ছুটছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় বর্ধিত সভা করা করে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নেওয়ার কথা। কিন্তু দু’একটি বাদে অধিকাংশ উপজেলায় বর্ধিত সভা দূরে থাক সাধারণ সভা হয়নি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। এর মধ্যে দলে অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলা কমিটিকে মানতে চাইছেন না। প্রতি উপজেলায় চূড়ান্তভাবে তিনজনের নাম জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অর্ধডজনেরও বেশি প্রার্থী হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই আ.লীগের দুটি করে কমিটি। এই দুটি ইউনিটে একাধিক তালিকা করে প্রার্থীদের নাম জমা দিয়েছেন সভাপতি, আহ্বায়ক দাবিদার নেতারা। প্রার্থিতার নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব ইউনিটে বর্ধিত সভা হয়নি। নিজেদের বলয়ের প্রার্থীদের নাম প্রথমে রেখে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নাম শেষে দিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজেরাই প্রার্থী। তারা নিজেরা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরটাও জমা নেন। ফলে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী অন্যদের নাম জেলা কমিটিতে জমা হবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় একই অবস্থায়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় গোপন ভোটে আয়োজন নেতাদের বিশৃঙ্খলার কারণে পণ্ড হয়ে গেছে।

দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় স্থানীয় সাংসদ জয়া সেনগুপ্তা ও জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের অনুসারী পৃথকভাবেই কর্মসূচি পালন করেন। নির্বাচনে এ দুই উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।দক্ষিণ সুনামগঞ্জে দলীয় সমর্থনের আশায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের পেছনে ছুটছেন।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা যুবলীগের সদস্য রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলে কোনো প্রশ্ন

থাকত না। আমাদের উপজেলায় ভোটও হয়নি, বর্ধিত সভাও হয়নি। জেলা আ. লীগের কোষাধ্যক্ষ ইশতিয়াক আহমদ শামীম বলেন, প্রতিটি উপজেলা থেকে তিন জনের নাম দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রতিটি উপজেলায় পাঁচজনেরও বেশি প্রার্থী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত