শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তেল খালাসে সাগরে ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’

শুষ্ক মৌসুমেই মহেশখালী পতেঙ্গা পাইপলাইন

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৬ এএম

জাহাজ থেকে তেল খালাস করে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সরবরাহের জন্য গভীর সমুদ্রে ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি শুষ্ক মৌসুমেই সমুদ্র থেকে মহেশখালী উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হবে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। এর মধ্যে প্রকল্পের মালামাল খালাসের জন্য বন্দরে দুটি জেটি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে; প্রথম ধাপে বসানোর জন্য চীন থেকে পাইপলাইনও এসেছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অগ্রগতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০২১ সালের আগস্টের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে বিপিসির আওতাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং পয়েন্ট (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে আনোয়ারার গহিরা ও পটিয়ার জুলধা হয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রধান ডিপোতে সরাসরি তেল সরবরাহ করা হবে। এর ফলে তেল পরিবহনে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

প্রকল্প পরিচালক ও ইআরএলের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সমুদ্রে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করা কঠিন, তাই চলতি শুষ্ক মৌসুমেই সমুদ্র থেকে ভূমি পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরোর (সিপিপিবি) অধীনে শতাধিক বিদেশি প্রকৌশলী ও কর্মচারী সেখানে কাজ করছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট থেকে পরবর্তী ৩৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

পাঁচ হাজার ৪২৬ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর চীন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। ওই বছরের ৩ নভেম্বর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জার্মানির আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স প্রকল্পের ‘ডিটেইল ডিজাইন’ প্রণয়ন করছে।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, মহেশখালীর ধলঘাটা থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে বসানো হবে মূল ‘মুরিং পয়েন্ট’। মাতারবাড়ী উপকূলে বসানো হবে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার অপরিশোধিত তেলের তিনটি ট্যাংক ও ৩০ হাজার টন ধারণক্ষমতার পরিশোধিত তেলের তিনটি ট্যাংক। মুরিং পয়েন্ট থেকে মাতারবাড়ীর ট্যাংক পর্যন্ত থাকবে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাইপলাইন। মাতারবাড়ী ট্যাংক থেকে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের দুটি পাইপলাইনের মাধ্যমে পতেঙ্গার গুপ্তখালে ডিপোতে তেল পৌঁছানো হবে। গভীর সমুদ্রে মুরিং বসানো হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ তেল খালাস করা সম্ভব হবে এবং আনুমানিক ৬০ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে। সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তেল পরিবহন বাবদ সরকারের বছরে অন্তত ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত