শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘যদি রাস্তায় ডিমই বিক্রি করতে হয়, বড় ডিগ্রি দিয়ে কাম কী’

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০২ পিএম

ভারতে কর্মসংস্থান সংকটে আটকে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে আসা শিক্ষার্থীরা। নিম্ন পর্যায়ের সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করছে উচ্চশিক্ষিত হাজার হাজার তরুণ। এমনকি ঝাড়ুদার এবং স্যানিটারি কর্মী পদের জন্য কয়েক হাজার প্রকৌশলী এবং এমবিএ ডিগ্রিধারীর আবেদনের ঘটনাও ঘটেছে সম্প্রতি।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ুয়া ২১ বছর বয়সী সাগর কুমার রাস্তায় ফুডভ্যানে খাবার বিক্রি করেন। ছোট ভাইবোনের স্কুলের খরচ ও বাবার কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে মুম্বাইতে রাস্তায় এ পেশা বেছে নিতে হয়েছে উত্তরপ্রদেশের এই তরুণকে।

সরকারি চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ তিনি। আলজাজিরাকে সাগর বলছেন, “আমি রাতে পড়াশোনা করি আর দিনের পুরোটা সময় রাস্তায় ফুডকার্টে করে খাবার বিক্রি করি। এতে আমার দিনে ৫০০ রুপি করে আয় হয়।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় যদি ডিমই বিক্রি করতে হয়, তাহলে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি আমার কী কাজে আসবে?”

তার মতোই নয়াদিল্লির তুগলাকাবাদের বস্তিতে ২৪ বছর বয়সী সীমা খণ্ডকালীন রান্নার কাজ করেন। শিক্ষিত এ তরুণী আশায় আছেন, কোনো অফিসের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। কিন্তু তাকে করতে হচ্ছে রান্নার কাজ।

সীমা বলেন, “আমি খুব ভালো টাইপিং পারি। আমার পরিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে এসেছে ভালো জীবন যাপনের সন্ধানে। সরকারি অফিসে আমি একটি ক্লার্কের চাকরির প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু আমার কপাল খারাপ। এখন তো চাকরি করতে গিয়ে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।”

দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ হলেও বিশ্বের অন্যতম বেকারত্ব সংকটপূর্ণ এখন ভারত। অধিক জনগোষ্ঠীর দেশটিতে প্রতি বছর ১ কোটি ২ লাখ লোক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে যাদের অধিকাংশ কর্মসংস্থানহীন থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

গত ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছিলেন, বছরে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান করা হবে।

কিন্তু এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও গত ৪৫ বছরে সবচেয়ে বড় বেকারত্ব সংকটে ভুগছে দেশটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত