শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জাবি ছাত্রলীগের দুই পক্ষে গুলিবিনিময়, প্রক্টরসহ ১০ আহত

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:২৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় প্রক্টরসহ ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে জাবি শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল তার স্ত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের উপস্থিতিতে তার কর্মীরা রাজিবের উপর চড়াও হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দু’জনকে সরিয়ে দেন।

এদিকে, রাজিবের ওপর আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ও রবীন্দ্রনাথ হল থেকে তার (রাজিবের) অনুসারীরা লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শহীদ সালাম-বরকত হল আক্রমণ করতে আসেন। সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল এ সময় হলটিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় চঞ্চলের অনুসারীরাও পাল্টা আক্রমণ করলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। কামাল উদ্দিন হল ও বটতলা এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলি বিনিময় হয় বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু সৈয়দ জিন্নাহ। এছাড়া, উভয় পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্যে পড়ে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানসহ দু’পক্ষের ১০-১২জন আহত হন।

জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে সালাম-বরকত হলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে মারধর করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে চঞ্চল রাজিবের গ্রুপের রাজনীতি করতেন। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরও দু’জনের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। তবে নিয়োগ বাণিজ্য কেন্দ্র করে গত বছরের শেষের দিকে দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হয়।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছে। আমার স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘রাজিব আহমেদ রাসেল এর আগেও আমাকে লাঞ্ছিত করেছিল। এখনো সে নানা বিষয়ে আমার ওপর প্রেশার দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি বারবারই তাকে এসব করতে নিষেধ করেছি। আজকে সে ক্যাম্পাসে আসলে আমি তাকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলি যাতে কোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হয়। কারণ পোলাপান তার ওপর ক্ষেপে আছে। এ সময় তার ওয়াইফ ভিডিও করতে থাকলে এটা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। তারা গুলিও ছুড়েছে।’

প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ইটের আঘাতে আমি বুকে ব্যথা পেয়েছি। ১০-১২ জন আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের জন্য বলেছি। হলগুলোতে রেইড দেওয়ার কথা ভাবছি। ’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত