রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এর সহস্রাধিক রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬ ইউনিট চেষ্টা চালিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছে ফায়ার সার্ভিস।
হাসপাতালের সহস্রাধিক রোগীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'আগুনে কারো হতাহতের খবর আমরা পাইনি। যত রোগী ছিল, তাদের সবাইকে বের করে আনা হয়েছে'।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার খবর জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার পার্লামেন্ট চলছিল। আমি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যাই। পরে সেখানে রাত ৮টা পর্যন্ত ছিলাম। তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে।
হাসপাতালে আগুনের ঘটনায় স্বাস্থ্য সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও একটি কমিটি করতে বলেছি। এসব কমিটি খতিয়ে দেখবে কিভাবে আগুন লাগলো।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর একাধিক স্বজন জানান, আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আতঙ্কিত রোগীরা হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় অক্ষম রোগীদের বাইরে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।
শেরে বাংলা নগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুরুতর অনেক রোগীকে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপদ জায়গায় সরিয়েছেন। আবার অনেক রোগীকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালে বেশির ভাগ রোগী সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
শেরে বাংলা নগর থানার এস আই রাজিব তালুকদার দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন ভবনের স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অল্পসময়ের ব্যবধানে তা ছড়িয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারপর তা ছড়িয়ে দ্বিতীয় তলার শিশু ও গাইনি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় তলায় চিকিৎসাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রোগী রিফাতের বাবা মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগুন লাগার পরপরই আমার চিকিৎসাধীন ছেলেকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারপরই ছেলেকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছি।
একইভাবে আগুন লাগা ভবন থেকে অন্তত ২৪ রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরা হলেন- আমেনা, সুফিয়া, জাহানারা, শফিকুল ইসলাম, আবু আহমেদ, ইউসুফ, মেহেদী হাসান ও শাকিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মো. আলাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের অনেকেকেই আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪-২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, রোগীদের জন্য আমরাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
