'চিকিৎসক আন্তরিক হলে ক্যানসার চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়া কমবে'

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৫ পিএম

সচেতনতার অভাবে দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।

তারা বলে, দেশে ক্যানসারের চিকিৎসক কম থাকায় বিদেশে চিকিৎসা প্রবণতা বাড়ছে রোগীদের। অন্যদিকে চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে রোগীদের সময় দিলে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক নবীন চিকিৎসক অংশ নেন।

 অনুষ্ঠানে ল্যাব এইড হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. এ এফ এম কামালউদ্দিন বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী ক্যানসারের চিকিৎসা সব দেশেই এক। বাংলাদেশে যে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা হয় অন্য দেশের চিকিৎসকরাও একই নিয়ম অনুসরণ করেন। তারপরও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বেশি।

তিনি বলেন, দেশে ফিরে রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে শুধু একটা কথাই বলেন, যে চিকিৎসক দেখেছেন তিনি মনযোগ দিয়ে সময় নিয়ে দেখেছেন। অর্থাৎ চিকিৎসা একই হওয়ার সত্ত্বেও  আন্তরিকতার কারণে রোগীদের আস্থা বেশি।  আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও যদি রোগীদের আন্তরিক ভাবে সময় দিয়ে কথা বলেন, চিকিৎসা করেন, তবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে।

নবীন চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ দেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এম হাই।

তিনি বলেন, রোগীদের সঙ্গে যতটা সম্ভব আন্তরিক ভাবে কথা বলতে হবে। শুধু টাকার পেছনে ছুটলে চলবে না।

তবে দেশে ক্যানসারের চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনা কম বলেও জানান অধ্যাপক ডা. এম এম হাই।

তিনি বলেন, সচেতনতার কারণে দিন দিন ক্যানসারের রোগী বাড়ছে। সে তুলনায় ক্যানসারের চিকিৎসক কম। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হয় চিকিৎসকদের। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন ক্যানসার প্রতিরোধে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মত দেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান হাবিবুল্লাহ তালুকদার।

তিনি বলেন, রোগী হলে চিকিৎসা হবে, কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধি হলে ক্যানসার হবে না। অনেক সময় অনেকেই আসেন শেষ সময়ে, যখন আর কিছুই করার থাকে না। তাই ক্যানসারের লক্ষণ, উপসর্গ এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ক্যানসার নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া কথা বলেন ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক।

তিনি বলেন, বিগত তিন বছর ধরে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা জনসচেতনতা বৃদ্ধি আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেলের কলেজ হাসপাতালের শিশু ক্যানসার ও রক্তরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জহুরা জামিলা খান, ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগীয় প্রধান ডা. তপেশ কুমার পাল,জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের গাইনী অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাহানা পারভীন, এপ্যোলো হসপিটালের রেজিস্ট্রার ডা. নারিতা খুরশিদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত