শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ী রাসায়নিকের গুদাম নয়। সেখানে রাসায়নিকের মজুত নেই বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেছেন, গতরাতে এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য রাসায়নিক পদার্থ কোনো ভূমিকা রাখেনি। তরলীকৃত গ্যাস (এলপি) সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেলে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব বলেন।
তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহজনিত ত্রুটির কারণে এখানে নিয়ে আসা সিলিন্ডার দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিস্ফোরিত হয়। নিকটবর্তী বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারও এর ফলে বিস্ফোরিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, এর ফলে গোটা এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় পড়ে। এবং আগুনের কারণে এটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়। এখানে রাসায়নিকের কোনো ভূমিকা ছিল না।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, এখানে বিভিন্ন কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। তবে রাসায়নিক ছিল না।
তবে তিনি আশপাশে কোথাও কোনো রাসায়নিকের গুদাম থাকলে তা সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে বিকট বিস্ফোরণ হয়। এরপর আগুন লাগে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, হাজি ওয়াহেদ ম্যানসনের নিচতলার রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খুব দ্রুত পাশের তিনি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে এ আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করে বিমানবাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার। দুপুর নাগাদ আগুন পুরো নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে ৭০জনের প্রাণহানি ঘটে।
তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই এলাকায় থাকা একাধিক কেমিক্যাল গোডাউনের কারণে খুব দ্রুত আগুন আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের সময় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, একটি সিএনজি বহনকারী পিকআপ ট্রাকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরপরই পাশে থাকা গোডাউনের দোকানে আগুন লেগে যায়, ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
