চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকেরা। অপর তিনজনের অবস্থা মোটামুটি ভালো হওয়াতে দু’একদিনের মধ্যে তাদের ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দগ্ধদের চিকিৎসায় সকল বিভাগের চিকিৎসকদের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এছাড়া, রোববার দুপুরে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বান ইউনিটে যান। সেখানে তিনি রোগীদের ও স্বজনদের খোঁজ খবর নেন।
রোববার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে গিয়ে দেখা গেছে দগ্ধরা বিছানায় কাতরাচ্ছেন। প্রতিজন রোগীর জন্য একজন করে পরিবারের সদস্য রয়েছে। একাধিক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দগ্ধদের শরীরের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারও কারও শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। শরীরের ক্ষত নিয়মিত ড্রেসিং করায় অসহনীয় কষ্ট সইতে হচ্ছে তাদের।
দগ্ধ শেখ মাসুদের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, তাদের বাসা হাজির বালুর রোডে। স্বামী ওষুধ কিনতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হন। তার শরীরের ১৩ ভাগ পুরে গেছে। পিঠ বেশি পুড়ে যাওয়ায় শুতে কষ্ট হয়। ঘুমতে পারে না ঠিক মতন।
সব থেকে বেশি দগ্ধ সোহাগের ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘ভাইয়ের শরীরে অবস্থা খুবই খারাপ। কারও সঙ্গে কথা বলছে না। ড্রেসিং করার সময় খুবই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ জানে কি আছে আমার ভাইয়ের কপালে।’
বার্ন ইউনিটে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের মধ্যে যাদের শ্বাসনালি পুরেছে, ডায়াবেটিক ও হাই প্রেশার আছে তাদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।
তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে সোহাগের পুড়েছে ৬০ ভাগ, রেজাউলের ৫১ ভাগ, মোজাফফরের ৩০ ভাগ, জাকিরের ৩৫ ভাগ, আনোয়ারের ২৮ ভাগ ও সালাউদ্দিনের ১০ ভাগ। এদের মধ্যে মোজাফফর ও আনোয়ারের শ্বাসনালি পুড়েছে। জাকিরের রয়েছে ডায়াবেটিক। সালাউদ্দিনের হাই প্রেশার, ডায়বেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে। ফলে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতেও বেগ পেতে হচ্ছে। এ ছাড়া দগ্ধ সেলিমের ১৪ ভাগ, হেলালের ১৬ ভাগ ও মাহমুদের ১৩ ভাগ পুড়েছে। এদের অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এই তিনজনকেই আইসিইউ থেকে বের করা হতে পারে।
ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, ‘বার্ন ইউনিটে ভর্তি দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের একেক জনের ৬০ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছেন। তাদের কারও কারও শ্বাসনালি দগ্ধ ও মাথায় আঘাত রয়েছে। সকল বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাকি তিনজনের অবস্থা মোটামুটি ভালো আছে। আশা করছি দুই তিন দিনের মধ্যেই আইসিইউ থেকে সরিয়ে নিতে পারব।
