মাদকে জড়িত পুলিশ সদস্যকেও কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে তোলা হবে

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ০১:১৩ এএম

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

রোববার বিকেল রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ স্কুলের মাঠে মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, পুলিশের কোন সদস্যও যদি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য হলে তাকেও কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে তোলা হবে।

পুলিশের গুলশান বিভাগ আয়োজিত মাদক ও জঙ্গি বিরোধী এই সমাবেশে আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘১৫ দিন আগে গুলিস্তানে ঢাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হজরত আলী বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদক মামলা ছিল। এ ছাড়া মাদকের সঙ্গে জড়িত সকলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। গত সপ্তাহেও রমনা এলাকায় একজন মাদক ব্যবসায়ীকে পালানোর সময় পায়ে গুলি করা হয়েছে। তিনি এখন পঙ্গু। মাদক ব্যবসা করে পার পেয়ে যাবেন এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। মাদক ব্যবসায়ীর খোঁজ পেলেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে।’

কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মহানগরী থেকে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন সব উঠে গেছে বললেই চলে। আপনারা দেখেছেন বনানীতে একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল পুলিশি অ্যাকশনের কারণে তাদের সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কার সাহস আছে মাস্তানি করবেন করেন। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।

এ সময় তিনি বলেন, গুলশান বাড্ডা এলাকার সন্ত্রাসীরা একের পর এক পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

বস্তিবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটা সত্য কথা বলি, কেউ মনে কিছু মনে নেবেন না। সবার প্রচলিত ধারণা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। এটি সবচেয়ে বড় সত্য কথা। তবে আপনারা একত্রে হোন। কোন পুলিশ সদস্য যদি মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করেন তার কাছ থেকে বখরা আদায় করেন ওই পুলিশ সদস্যকে ধরে বেঁধে রেখে আমাকে জানান। দেখেন তার বিরুদ্ধে কি ধরনের অ্যাকশন নেই। অন্যান্য লোকের মতো মাদক ব্যবসায় জড়িত পুলিশকেও রশি দিয়ে বেঁধে আদালতে তুলব। তবুও আরেকটা ঐশী সমাজে জন্ম হতে দেব না।’

অনুষ্ঠানে গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘কড়াইল বস্তি থেকে মাদককে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়েছে। এখানকার মাদকের গড ফাদার ছিল সীমা ও জলিল। তারা এখন কোথায় কেউ বলতে পারে না। জলিলের মাদক আখড়ায় এখন ডে-কেয়ার সেন্টার ও লাইব্রেরি খোলা হয়েছে। খেলাধুলার স্থান করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করা হয়েছে। এখানকার ২৫০ জন মাদক ব্যবসায়ী ভালো হয়ে গেছে। তারা এখন অন্য ভালো পেশায় যুক্ত আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত