গেটম্যানের অবহেলায় গোপালগঞ্জে রেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী ৩ তরুণের। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি রেলক্রসিং পার হতে গেলে রেলের ধাক্কায় তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন- শহরের ইসলামবাগ এলাকার সিদ্দিক সিকদারের ছেলে রাজু সিকদার (২৫), মোহাম্মদ পাড়ার কামরুল চৌধুরীর ছেলে তানভীর চৌধুরী রকি (১৯) এবং গাজীপুর জেলার দিঘীরতালা গ্রামের মো. সায়দান মোল্লার ছেলে লেবু মোল্লা (২৫)। লেবু মোল্লা একটি বিয়েতে অংশ নিতে গাজীপুর থেকে গোপালগঞ্জে আসেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনায় সময় গেটম্যান ডিউটি না করে, তার কক্ষে ঘুম ছিলেন। যদি সে ঠিকমতো তার দায়িত্ব পালন করত। তবে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত গেটম্যান সুমন কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রাত ১১টার দিকে গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়। দুর্ঘটনা স্থানে একটি রেল ক্রসিং রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে রেল লাইন ক্রস করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ভোর সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে রেলওয়ে পুলিশ স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ আকবর হোসেন জানান, রেলের ধাক্কায় ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ইউডি মামলা হয়েছে। লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, রাজবাড়ী রেলওয়ের বি ডব্লিউ আই কর্মকর্তা ম. আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেন, গেটম্যানের সিগনাল অমান্য করে ৩ মোটরসাইকেল আরোহী রেলক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করলে রেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। গেটম্যানের অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি সত্য নয়। তারপরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে সে দোষী প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
