নড়াইলে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সদর উপজেলার তারাশি গ্রামে গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হামলায় গোলাম রহমান সিকদার (৬০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে। নিহত গোলাম সিকদার তারাশি গ্রামের মাজেদ সিকদারের ছেলে।
তারাশি গ্রামের রানা আহম্মেদ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই গ্রামের জেলা পরিষদ সদস্য বরকত বিশ্বাসের সঙ্গে সরোয়ার মোল্লার বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরকত বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলুর পক্ষে এবং সরোয়ার মোল্লা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী বিপ্লব হোসেন বিলোর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালান। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নিজাম উদ্দিন খান নিলু জয়লাভ করেন। নিহত গোলাম রহমান সিকদারের পক্ষের মাতব্বর বরকত বিশ্বাস ছিলেন বিজয়ী নৌকার প্রার্থীর পক্ষের সমর্থক।
প্রতিবেশী রানা আহম্মেদ আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইজপাড়া বাজারে ইমরান সিকদার নামে এক ভ্যানচালক কালাম মোল্লার ভ্যানে উঠতে চাইলে তিনি ইমরানকে বলেন, ‘নৌকার লোককে ভ্যানে নেব না।’ এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই গ্রামের আউরি মোল্লা দাবি করেন, গোলাম রহমান সিকদারকে তিজার উদ্দীনের ছেলে শরিফুল মোল্লা, ফুল মিয়ার ছেলে মনিরুল মোল্লা, ওমর মোল্লার ছেলে হুমায়ুন মোল্লাসহ ১৫-১৬ জন লোহার রড এবং সড়কি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার সময় নিহত গোলাম রহমান সিকদার পাওয়ারটিলার নিয়ে মাঠের জমির দিকে যাচ্ছিলেন।
এ ব্যাপারে সরোয়ার মোল্লা দাবি করেন, গোলাম রহমান সিকদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাকে খুন করা হয়নি।
নড়াইল থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, ঘটনার পর তারাশি গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।
