পবিত্র কোরআন এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আলোকে বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তানের হেফাজত, দেনমোহর- এসব বিষয়ে এ-সংক্রান্ত সালিস কাউন্সিলের ভূমিকা নিশ্চিত করতে নীতিমালার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি এসব বিষয়ে সালিশি কাউন্সিল কার্যকর করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্তে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
গত বছর আগস্টে ‘ঢাকায় ঘণ্টায় এক তালাক’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে আইনজীবী কাজী মারুফুল আলম জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফৌজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম।
রিটকারীর আইনজীবী ফৌজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক আবেদনের ৯০ দিনের মধ্যে তিনবার নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে কোনো পক্ষ আপস বা তালাক প্রত্যাহারের আবেদন না করলে তালাক কার্যকর বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু এটি কার্যকর হলেও এর সঙ্গে দেনমোহর, ভরণ-পোষণের পাশাপাশি সন্তান থাকলে জিম্মায় নেয়ার বিষয় থাকে। এ কারণে তালাক হওয়ার পরও এ বিষয়গুলো নিয়ে মামলা হয়, যা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লেগে যায়।
তিনি বলেন, আমরা আদালতে বলেছি, পবিত্র কোরআনের আলোকে এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী সালিশি পরিষদ কার্যকর করতে এবং এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করতে। আদালত বক্তব্য শুনে রুল জারি করেছেন।
‘চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আইন সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিব (ড্রাফটিং), মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, এলজিআরডি সচিব ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে’।
