অতীতের মতো ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার চক্রান্ত করে সুপরিকল্পিত ভাবে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে। তাই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, যারা দেশের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শামিল ছিল তাদের দূরে সরানো হচ্ছে, বন্দী করা হচ্ছে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে বাক্স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ সংবিধান স্বীকৃত সকল অধিকার থেকে দেশের জনগণ বঞ্চিত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। নিজের মতো করে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে ছাত্ররা। এখন সময় এসেছে আবারও আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মাকে মুক্ত করার, তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী হওয়ার পর দলে যৌথ নেতৃত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। সেই যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া হচ্ছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে আজকে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।
‘জ্যেষ্ঠ নেতারা যেমন যৌথ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তেমনি ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে’-ছাত্রদলের নেতাদের প্রতি এমন আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ইতিহাসে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্ররা।
শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফখরুল বলেন, বিএনপি সব সময় সকল ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিপক্ষে। বিএনপি এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।
