পাকিস্তানের যে শহরে বালকরা পুরুষের কাছে অনিরাপদ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৪৫ পিএম

পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে যেখানে শুধু নেকড়েরূপী মানুষের দেখা মিলবে। তেমন একটি জায়গা পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের হার্নাই ভ্যালির শাহারাগ শহর। সীমান্তবর্তী এই শহরে প্রায় চারশ কয়লাখনি আছে। এই খনিগুলোতে কাজ করে প্রায় ৩০ হাজার পুরুষ। খনিগুলোতে অনেক শিশু কাজ করলেও সরকারিভাবে তাদের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।

শাহারাগে মূলত পশতুন ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এ ছাড়াও মার্রি বেলুচ আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষেরও বসবাস ওই শহরে। কয়লাখনিতে কর্মরত কর্মীদের অধিকাংশই আসে খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং পাঞ্জাব অঞ্চল থেকে। পাশাপাশি আফগান সীমান্ত এলাকা থেকেও অনেকে আসে। এই অঞ্চলটি মূলত পিতৃশাসিত এবং ধর্মীয় দিক দিয়ে উগ্র। নারীরা প্রায় বাড়ি ছেড়ে বের হয় না বললেই চলে।

বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়লাখনিতে কাজ করতে আসা কম বয়সী বালকদের ওপর চালানো হয় বর্বরোচিত যৌন নির্যাতন। কয়লাখনির তলদেশে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের হাতে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ওই বালকরা। সরকারের খাতায় কয়লাখনিতে শিশু শ্রমিকদের কোনো অবস্থান না থাকায়, যৌন নির্যাতনের বিষয়টিও আড়ালেই থেকে যায়। ফলে নির্যাতনের শিকার ওই বালকরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায় না।

২০১৭ সালে সোয়াত ভ্যালি থেকে শাহারাগে যায় শাহ ফারম্যান। শহরের একটি কয়লাখনিতে মাসিক ৩৫ হাজার রুপির বিনিময়ে কাজে যোগ দেয় শাহ। কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সে। শাহের ভাষ্যে, ‘তারা আমাকে বলেছে এসব ঘটনা স্বাভাবিক বিষয়।’

এ বিষয়ে দ্য ডনকে খনিশ্রমিক সাকিব বলেন, ‘কীভাবে আমি আপনাদের বালকদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে বলতে পারি। কয়লাখনির ভেতরে এবং বাইরে আমি বালকদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে গিয়েছি। এখানে এটা নতুন কিছু নয়। সোয়াতি এবং আফগানদের নিজেদের ছেলে যৌনসঙ্গী আছে। আমার তা নেই, কারণ আমি এখানকার স্থানীয়।’

গোটা শহরে ছেলেদের ওপর যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে সবচেয়ে ঘৃণিত ও পরিচিত ব্যক্তি হলেন সিরা পিসি। স্থানীয়রা তাকে লাল বিড়াল বলে ডাকে তার লাল চামড়া, দাড়ি ও গোঁফের কারণে। তার ভাষ্য মতে, অনেক ছেলে ইচ্ছে করে তার কাছে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত