নুসরাত হত্যাকাণ্ড: তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি জেলা প্রশাসনের কমিটি

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৩৭ পিএম

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনী জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি তিন দফা সময় বাড়িয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।

৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ভবনের তিনতলার ছাদে নিয়ে রাফির গায়ে আগুন দেওয়া হয়। পরদিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি কে এম এনামুল করিমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে জেলা প্রশাসন। ওই কমিটিতে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্লাহকে সদস্য করা হয়।

কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান। তিন কার্যদিবস শেষ হলেও কাজ শুরুই করতে পারেননি তারা। ১০ এপ্রিল বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত কমিটির প্রধান এনামুল করিম আরো সাত দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসক সাত কার্যদিবস মেয়াদ বাড়ান।

সে মেয়াদে প্রতিবেদন তৈরি করতে না পারায় কমিটি আরো সময় বাড়ানোর আবেদন করে। জেলা প্রশাসক আরো ৪ দিন সময় বাড়ান, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২১ এপ্রিল। তবে লক্ষণীয় যে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি।

এ ব্যাপারে কমিটির প্রধান পি কে এম এনামুল করিম বলেন, তদন্তকাজ শেষ করা হলেও নানা ব্যস্ততায় প্রতিবেদন তৈরি এখনো সম্ভব হয়নি। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিবেন বলে তিনি জানান।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি কে এম এনামুল করিমকে এই কমিটির প্রধান রাখায় সঠিক তদন্ত নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। রাফির স্বজনরা এরই মধ্যে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, নিপীড়নের ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি অভিযুক্ত এস এম সিরাজ উদ দৌলার পক্ষ নিয়েছিলেন।

রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানায়, গত ২৭ মার্চ রাফিকে যৌন নিপীড়ন করার ঘটনায় মামলা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তদন্ত দলের প্রধান একটি প্রশিক্ষণে জেলার বাইরে অবস্থান করায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফির উপর যৌন হয়রানির দায়ে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যায়।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত ৮আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

সিরাজ উদ দৌলাসহ ৯জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মণি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত