পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চার করে অগ্রসর হতে থাকায় মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে মোংলা থেকে প্রায় ১০৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর/উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এর প্রভাবে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে মোংলাসহ সংলগ্ন সাগর ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে হালকা-মাঝারি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে শুরু করলেও এখানকার আকাশ রোদ্রজ্জল রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণি আঘাত হানার সম্পর্কে সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, “যেহেতু ঝড়টি এখনো বেশ দূরে রয়েছে, তারপরও আমরা ঝড়ের গতিবিধি মনিটরিং করছি। বুধবার বন্দরে বিদেশি জাহাজ আগমন ও নির্গমন এবং অবস্থানরত জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজসহ সকল নৌযানগুলোকে সতর্কতাবস্থায় রাখার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো মোংলায় নিরাপদ স্থানে চলে এসেছে। বন্দরের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ কিংবা সচল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে মোংলা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামান বলেন, “সতর্কতা সংকেত বাড়ায় অর্থাৎ ২ নম্বর থেকে ৪ নম্বর হওয়া বুধবার বিকেলে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে প্রস্তুতির সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জরুরি ওই বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সিপিবি’র সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, “সকল সরকারি কর্মকর্তাকে কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া যারা দূরে আছে তাদেরকেও বিকেলের মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। মোংলার ৭৮টি সাইক্লোন শেল্টার ছাড়াও বহুতল ভবনগুলোকেও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার, পর্যাপ্ত শুকানো খাবার ও ওষুধ মজুদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় রামপাল উপজেলা পরিষদেও জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র মো. জুলফিকার আলী বলেন, “ফণি’র আঘাতের আশংকা মাথা রেখে বুধবার দুপুরের জরুরি সভায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুপুরের পর থেকে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য প্রচারণা চালানো হবে।
