‘বালিকা গৃহ’ নামে ভারতের বিহারের মুজাফফরপুরের একটি আবাসিক হোমের ১১ কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের পর খুন করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
শুক্রবার এক হলফনামায় সুপ্রিম কোর্টে এমন বিস্ফোরক তথ্য জানাল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা-সিবিআই।
সিবিআই জানিয়েছে, ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ব্রজেশ ঠাকুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অন্তত ১১টি কিশোরীকে খুন করে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হোমের কাছেই একটি কবরস্থানের বিশেষ জায়গা থেকে প্রচুর হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছে।
আনন্দবাজার জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও তদন্তে ওই ১১ কিশোরীর নামও উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিস) রাজ্যের জুভেনাইল হোমগুলোতে গত বছর বিশেষ অডিট করা হয়। সেই অডিট রিপোর্টেই বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত মুজাফ্ফরপুরের এই হোমে আবাসিকদের উপরে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে।
জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮-র মধ্যে ছয়জন কিশোরী ওই হোম থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। পরে মামলাটির তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ইতোমধ্যেই ব্রজেশ ঠাকুরসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই।
আদালতে সিবিআই জানায়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সের বিশেষ দলের উপস্থিতিতে তদন্তকারী অফিসারেরা প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই হোমে নির্যাতনের শিকার হওয়া অন্য কিশোরীদের দেওয়া বক্তব্য থেকে ব্রজেশ ঠাকুরের হাতে খুন হওয়া ওই ১১ কিশোরীর নাম জানতে পেরেছেন।
হলফনামায় সিবিআই জানায়, ‘বালিকা গৃহ’ নামে মুজাফফরপুরের ওই হোমে ৩৫ জনের মতো কিশোরী ছিল। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসে ওই কিশোরীদের উপরে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন চালাত।
সিবিআই জানায়, জেরার মুখে গুড্ডু পটেল নামে এক অভিযুক্ত কবরস্থানের একটি বিশেষ অংশ চিহ্নিত করেছে। অভিযোগ, সেখানে ব্রজেশ খুন হওয়া কিশোরীদের দেহ চাপা দেয়। পরে সেখান থেকে বেশ কিছু হাড়গোড় উদ্ধার করে গোয়েন্দারা।
