বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা এবং তারপর নির্বাচন কমিশনের ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাচনী প্রচারের সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পরে পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল বিজেপি যখন চাপে, তখন প্রত্যাশিতভাবেই তৃণমূলের পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধীরা।
দেশের সমস্ত বিজেপি-বিরোধী দল একযোগে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল। এদের মধ্যে সব থেকে জোড়ালো আওয়াজ কংগ্রেসের।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে এই প্রথম ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ ধারার প্রয়োগ করে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রচারের সময়ও কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলার প্রতিটি রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার করতে পারবে বলে বির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের এডিজি সিআইডি রাজীব কুমারকে।
এরপরই মমতার সমর্থনে কথা বলতে শুরু করেছে কংগ্রেস। একেএকে আহমেদ প্যাটেল, রণদীপ সুরজেওয়ালা, অভিষেক মনু সিংভি বিজেপির নিন্দায় মুখর।
কংগ্রেসের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ মুখে কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতার কথা বলেন। কিন্তু মোদি সরকারের আসলে ফ্যাসিবাদী। গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক কালো দিন। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে সংবিধানের আইন ভেঙেছে কমিশন।
অখিলেশ যাদব, চন্দ্রবাবু নায়ডু, মায়াবতীদের মতো বিরোধী নেতারাও মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সকলেরই এক কথা, এটা কমিশন এবং বিজেপির যৌথ প্রয়াস। অন্যসব বিরোধীরা বিজেপীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা এই নেতা-নেত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই জোট তৎপরতা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ভোট-পরবর্তী জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন চন্দ্রবাবু নায়ডু।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আগামী ২১ মে দিল্লীতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, ফলাফলের দিন দেশের সব বিরোধী নেতানেত্রীকে দিল্লিতে চাইছে কংগ্রেস। সকলকে আমন্ত্রণ পত্রও পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর ফের বিরোধীদের এক ছাতার তলায় আনার কাজটা তরান্বিত হল, বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
