সংবাদ সম্মেলনে মঈন খান

অশিক্ষা, কুশিক্ষা নকলে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে

আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ০২:২১ এএম

অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও নকল দিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়াই যথেষ্ট।’ গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করে ড. মঈন খান বলেন, এক সময়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আজকে সে অবস্থায় নেই। অনেক বিভাগের কোর্স কারিকুলাম বা সিলেবাসসমূহ বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ করা হয় না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব আজ চরম আকার ধারণ করেছে।’

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন, ইউরোপ-আমেরিকা-চীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হওয়ার পেছনে আছে তাদের সম্পদ ও সমরাস্ত্র। কথাটি সঠিক নয়। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আমেরিকা, ইউরোপ ও চীনে। কাজেই একটি জাতির উন্নতির সোপান যে একমাত্র শিক্ষা, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

ঢাবির সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ‘ঢাবির লাইব্রেরিতে এমন সব দুষ্প্রাপ্য বই ও পা-ুলিপির সংগ্রহ রয়েছে যা পৃথিবীর অনেক খ্যাতনামা লাইব্রেরিতেও নেই। আজ সেগুলোর আদৌ কোনো ব্যবহার আছে কি না সন্দেহ রয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৮৩টি এক্সচেঞ্জ চুক্তি রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয় বা সংস্থার সঙ্গে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উঁচুমানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আছে কি না, সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল হক, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত