রেলের শায়েস্তাগঞ্জ সেকশনের ২২টি ব্রিজের অবস্থা খারাপ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ০৯:৫৪ পিএম

ঢাকা-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ সেকশনের  ২২টি রেলসেতুর অবস্থা নাজুক। যেকোনো সময় ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়,শায়েস্তাগঞ্জ সেকশনের অধীন  মুকন্দপুর থেকে লস্করপুর পর্যন্ত  ২২টি ব্রীজ কালভার্ট অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বৃটিশ আমলে নির্মিত হওয়া এসব রেলসেতু দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কার করা হয়নি। দুর্বল হয়ে থাকা রেল সেতুগুলো মেরামতে মাঝেমধ্যে উদ্যোগ নিলেও কাজ হয় নামেমাত্র।

সরজমিনে দেখা গেছে শায়েস্তাগঞ্জের খোয়াই, লস্করপুর, কুতুবের চকের দুটি, বড়চর , সুতাং   ও চাইল্লা সহ ২২টি রেলসেতুসহ উপর দিয়ে সিলেট- ঢাকা –চট্রগ্রাম রুটে ঝুকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। দীর্ঘদিনের পুরাতন রেলসেতুর স্লিপারগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। নাটবল্টু খুলে যাওযায় এগুলো এবড়ো তেবরো অবস্থায় রয়েছে। কোন কোন ব্রীজের পিলারগুলোতে দেখা দিয়েছে  ফাটল।  রেলপথের কাছে সুতাং এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, শুধু রেলসেতু নয়, পুরো রেললাইনের অবস্থাই খারাপ। ট্রেন চলাচলের সময় রীতিমতো কাঁপতে থাকে রেললাইন।

 জহুরচান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন রুমি বলেন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দিক থেকেও সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। এছাড়া গ্যাস, পর্যটন, চা-পাতা, পাথর, মাছ ও ধান উৎপাদনেও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সিলেট বিভাগের রেললাইনের উন্নয়নে আমরা বৈষম্যের শিকার। কর্তৃপক্ষ সময়মতো উদ্যোগ না নেয়ায় মাঝে মধ্যে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে । এই বৈষম্য থেকে সিলেটবাসী মুক্তি চায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলের সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আক্তার খান ২২টি রেল সেতুর অবস্থা খারাপ স্বীকার করে বলেন এগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে। তিনি বলেন সাংবাদিকরা শুধু রেলপথে পাথর নেই, স্লিপার খারাপ, ঘাস উঠে গেছে এসব লেখেন। কিন্তু বগিগুলোর অবস্থা যে রেল লাইনের চেয়ে বেশী খারাপ তা লিখছেন না। এগুলোর টলারেন্স ক্ষমতাও আগের মতো নেই। দুর্ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে বগিও দায়ি। এগুলোও পরিবর্তন করতে হবে। বরমচালের দুর্ঘটনার ব্যাপারে তিনি সেতুর পরিবর্তে রেলের বগিকে দায়ি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত