দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিধান থেকে ‘ধর্ষণ’ শব্দটি মুছে যাক প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনের ওই মানববন্ধনে সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয়ের সঞ্চালনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, “আমরা আজ লজ্জিত কারণ একটি অস্বস্তিকর অবস্থা সামনে রেখে দাঁড়িয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি মহামারি রুপ ধারণ করেছে। মানুষের মানসিকতার বিপর্যয় ঘটেছে। মানবিকতার বিপর্যয় ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয় না বলেই বিচারহীনতার সংষ্কৃতি চলছে। এখন মা-বাবা তার সন্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আমরা চাই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, আজকাল যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা একদিনে হয়নি। ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ঘটনাগুলো ঘটছে। এসব তারই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হয়েছে, যতদিন না মূল্যবোধ পরিবর্তন হবে ততদিন এসব কার্যকলাপ বন্ধ হবে না। মেয়েরা সমাজ ও পরিবারে ভয়ে যৌন হয়রানি কথা চেপে রাখে। বিগত তিন মাসে যে ধর্ষণ হয়েছে তা দেশের সর্বকালের রেকর্ড।
সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্র যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এটা আগে থেকে কার্যকর হলে এমনটা আমাদের দেখতে হতো না। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়া বক্তব্য দেন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদ। অন্যান্যের মধ্যে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিমু দিল আফরোজ, নাজিয়াত হোসাইন চৌধুরী, আমেনা খাতুন, সাজ্জাদ বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগের শতাধিক শিক্ষক- শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন থেকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
