প্রথম ওয়ানডেতেও রান আউট হয়েছিলেন ধোনি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ০১:০১ এএম

২৩ ডিসেম্বর, ২০০৪। চট্টগ্রামে রান আউট হয়ে ফেরেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। সেটাই ছিল মাহির জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ।

১০ জুলাই, ২০১৯। ম্যানচেস্টারে মার্টিন গাপটিলের অসাধারণ থ্রোয়ে আর ক্রিজে ফেরা হলো না মাহির। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ওয়ানডেতেও যেন শুরুর সে দিনেরই ছায়া।

‘সম্ভাব্য’ বলা হচ্ছে, কারণ ধোনি সম্পর্কে আগে থেকে কিছু বলাই সম্ভব নয়। কারণ তার ক্যারিয়ারের চিত্রনাট্য যে তিনি নিজেই লেখেন। তাই এখনই বলা সম্ভব নয়, ম্যানচেস্টারের হৃদয়ভাঙা সেমিফাইনালই তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ কি না। তবে শেষ বিশ্বকাপ যে তিনি খেলে ফেললেন ইংল্যান্ডে বলে দেওয়াই যায়। প্রায় হেরে বসা একটা ম্যাচ শুধু তার জন্যই শেষের দিকে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। গাপটিলের দুরন্ত থ্রোতে যখন উইকেট ভেঙে গেল, তখনো ক্রিজে পৌঁছতে পাঁচ সেন্টিমিটারের মতো বাকি ধোনির। অবিকল একই ছবি ছিল ১৫ বছর আগের সেই ম্যাচে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটার তাপস বৈশ্যর ছোড়া বল উইকেটকিপার খালেদ মাসুদের হাতে পড়তেই উইকেট ভেঙে দেন তিনি। ধোনির আর ক্রিজে ফেরা হয়নি। অভিষেক ম্যাচে ধোনির রান আউট হওয়ার স্মৃতি এখন ফিকে হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদের মনে। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের ঘটনা। ভুলে গিয়েছিলাম। ধোনির আত্মজীবনী দেখে আবার মনে পড়ে গেল সেই রান আউটের মুহূর্তটা। ধোনি স্কয়ার লেগে বল ঠেলে রান নেওয়ার জন্য দৌড়েছিল। নন স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়ানো কাইফ ফিরিয়ে দেয় ধোনিকে। ততক্ষণে অনেক দেরি করে ফেলেছে ধোনি। তাপস আমাকে বল ছুড়ে দিয়েছে। আমি বল হাতে পেয়েই উইকেট ভেঙে দিই। ধোনির আর ক্রিজে ফেরা হয়নি।’

চট্টগ্রাম আর ম্যানচেস্টারের মধ্যে বিস্তর দূরত্ব। দুই দেশের দুই মাঠে ধোনির খেলা ইনিংসের প্রেক্ষিতও ভিন্ন। বুধবার ধোনি যখন মাঠ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তখন তার মুখ যন্ত্রণাক্লিষ্ট। দেশকে জেতাতে না পারার শোক তার চোখমুখে। খালেদ মাসুদ বলছিলেন, ‘ধোনির জন্য খুব খারাপ লাগছিল। অল্পের জন্য ক্রিজে পৌঁছতে পারল না। বিশ্বক্রিকেটে যে কজন ক্রিকেটার মস্তিষ্ক দিয়ে খেলে, তার মধ্যে অন্যতম ধোনি। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে গোটা ম্যাচটা দারুণ বিশ্লেষণ করে। আমার বিশ্বাস, কোন ব্যাটসম্যানকে কোন জায়গায় বল ফেলতে হবে, সেটা ধোনিই বোলারদের বলে দেয়। বোলার যখন বল করার জন্য দৌড়ায়, তখন ক্যামেরা বোলারকেই ধরে। বাকিদের আমরা আর দেখতে পাই না। তাই ধোনি থেকে যায় অদৃশ্য। কিন্তু, ওই তো দলের আসল মস্তিষ্ক।’

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে চলেন খালেদ। দুনিয়ার অন্যতম সেরা ফিনিশারের কাছে তার অনুরোধ, ‘খেলা যেন চালিয়ে যায় ধোনি। ওর শূন্যস্থান পূরণ করার মতো কাউকে এই মুহূর্তে দেখছি না।’ ধোনিভক্তরা বুক ঠুকে বলছেন, ‘ধোনি, খেলা চালিয়ে যাও। থেমো না।’ কিন্তু, তিনি তো ধোনি! কী করবেন কেউ জানেন না। হঠাৎই টেস্ট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন। কাউকে বুঝতে দেননি। প্রায় একইভাবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। যে মানুষটা প্রতিটি মুহূর্তেই চমক দেন, সেই তিনিও হয়তো জানতেন না তার ক্রিকেটজীবনের শুরু আর শেষ মিলে গিয়েছে একই বিন্দুতে। এও তো আশ্চর্য এক সমাপতন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত