শিশু ধর্ষণ: আপোষরফাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কী, জানতে চান হাইকোর্ট

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ০১:২৩ এএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী চতুর্থ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আপোষরফাকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

পাশাপাশি আপোষরফাকারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে কি-না তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছে  আদালত।

আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি), ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), একই থানার ওসিকে (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হযেছে।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রবিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেয়।

আদালতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইনজীবী এম এ হালিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

গত ১২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘শিশু ধর্ষণে জরিমানা ১৪ হাজার টাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় এক রিকশা চালকের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে একই এলাকার দুই স্ত্রীর স্বামী মেহেদুল ইসলাম ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবলু, গ্রাম পুলিশ আব্বাস উদ্দিন, রাজমিস্ত্রী সুজন ও শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এলাকায় সালিস বসে। সালিশে ধর্ষণের জন্য মেহেদুল ক্ষমা চাইলে তাকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। আর নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবাকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে কোনো মামলা না করার শর্তে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করা হয়। বাকি টাকা সালিশকারীরা ভাগ করে নেয়।

পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্যাতিতার বাবা গত বৃহস্পতিবার কয়েকজনের নামে স্থানীয় থানায় মামলা করে। পুলিশ আসামি মেহেদুল ও সুজনকে গ্রেপ্তার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত