ইংল্যান্ডের দুই বিশ্বকাপ জয়ই বিতর্কিত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১১:১২ পিএম

১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। ফাইনাল হয়েছিল ওয়েম্বলিতে। রানীর দেশ বিশ্বকাপ জিতেছিল ৪-২ গোলে। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন জিওফ হার্স্ট। তবে তার

তৃতীয় গোলটি ছিল বিতর্কিত। জার্মানরা দাবি করেছিল, হার্স্টের শট গোললাইন অতিক্রম করেনি। কিন্তু সুইস রেফারি গডফ্রেড ডায়নেস্ট গোলের বাঁশি বাজিয়েছিলেন। পশ্চিম জার্মানির স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেকটাও পোঁতা হয়ে গিয়েছিল।

লর্ডসে রবিবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু বাজে আম্পায়ারিং এবং ওভার থ্রো থেকে অতিরিক্ত রান পাওয়া নিয়ে সেই বিশ্বজয় কলঙ্কিত হয়েছে। তুলনা করা হচ্ছে ৫৩ বছর আগের ফুটবল বিশ্বকাপের সেই ঘটনার সঙ্গে। হার্স্টের বিতর্কিত গোল আর ওভার থ্রো থেকে ইংল্যান্ডের ৬ রান প্রাপ্তির তুলনা টেনে বলা হচ্ছেÑ ইংলিশদের দুই বিশ্বকাপ জয়ই বিতর্কিত। লর্ডসে সেদিন গাপটিলের ওভার থ্রো থেকে ৬ রান না পেলে হয়তো নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতত। মার্টিন গাপটিল থ্রোটা ঠিক জায়গাতেই করেছিলেন। কিন্তু বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে তা বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। যেখানে মাত্র ২ রান হওয়ার কথা সেখানে ইংল্যান্ড অতিরিক্ত বাউন্ডারিসহ পেয়ে যায় ৬ রান। আইসিসির নিয়ম মানলেও ৫ রান হওয়ার কথা। কারণ ফিল্ডার যখন স্ট্রাইকিংএন্ডে বল ছোড়েন তখন মাত্র ১ রান সম্পূর্ণ হয়েছে। যা হোক, ভাগ্যের সাহায্য পাওয়ায় ফাইনাল টাই হয়। এরপর সুপার ওভারও টাই হয়েছিল। শেষে বাউন্ডারির সংখ্যা গণনায় চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। অনেকই বলছেন, আইসিসির উচিত ছিল দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা।

ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা করেন বিখ্যাত আম্পায়ার সায়মন টোফেল। পাঁচবার আইসিসির সেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জেতা অস্ট্রেলীয় এই আম্পায়ার বলেন, ‘৬ রান নয়, ৫ রান পাওয়া উচিত ছিল ইংল্যান্ডের। আমি অন্যের দোষ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নই। তবে আশা করি এমন ভুল যেন আর না হয়।’ ইয়ান স্মিথের মতো নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার স্টোকসের ব্যাটে লেগে ওভার থ্রো হওয়ার সেই বল নিয়ে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘ছয় অনেক হয়েছে। কিন্তু ওভার থ্রোতে সব মিলিয়ে যে ৬ রানটা হলো, ওটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছয়।’

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও দার্শনিকের মতো বলেছেন, ‘ফাইনালে কেউ জেতেনি।’ কিউই অলরাউন্ডার বিতর্কিত ফাইনাল হারার পর কষ্ট গোপন না করে বলেছেন, ‘এই হারটা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। আশা করব, আগামী ১০ বছরে এমন কয়েকটা দিন আসবে যখন আমি এই ফাইনালের শেষ আধঘণ্টার কথা ভাবব না। ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। টুইটারে সমর্থকদের কাছেও তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন, ‘আমাদের পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের অসংখ্য ধন্যবাদ। মাঠে আপনাদের গর্জন শুনতে পেয়েছি। আপনারা যা একান্তভাবে চাইছিলেন, তা দিতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

নিউজিল্যান্ড আসলে ভাগ্যের কাছে পরাজিত হয়। ভাগ্য তাদের সঙ্গে থাকলে স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে বল যেত না। যদিও ম্যাচের পর ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে ইংলিশ অলরাউন্ডার বলেছিলেন, ‘আমি কেনের কাছে ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু ওটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। খেলার মধ্যে হয়ে গিয়েছে, আমরা রানগুলো পেয়েছি।’ একদিকে বাউন্ডারির হিসাবে হেরে যাওয়া অন্যদিকে গাপটিলের ওই ওভার থ্রো। দুটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর উইলিয়ামসন বলেন, ‘ব্যাপারটা লজ্জার। তাই না? বিশেষ করে ম্যাচের ওই সময়ে। ম্যাচ নিয়ে বলতে পারি, একটা রানে হার তো নয়। ম্যাচে অনেক মুহূর্ত আছে যেখানে দুটি টিমের মধ্যে কোনো তফাতই ছিল না। যে কেউ জিততে পারত। হয়তো এটা আমাদের দিন ছিল না। নয়তো এত কাছে এসে এভাবে আটকে যেতে হয়? ছেলেরা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’

আর লর্ডস ফাইনালে মহাবিতর্কের পরও বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে ১৯৬৬-এর মতোই হাসছে ইংল্যান্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত