ধর্ষণের শিকার মেয়েশিশুর চিকিৎসাও করাতে পারেননি দরিদ্র বাবা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৫:৫৬ পিএম

মেয়েটির বয়স ৭। বাবা দিনমজুর। দিন আনি দিন খাই- তাদের পরিবারের অবস্থা এমন। সেই পরিবারের আরেকটি বেদনার কথাও জানত না কেউ।

গ্রামের দুই বখাটে দিনের পর দিন ধর্ষণ করত মেয়েশিশুটিকে। ধর্ষণের পর ছুরির মুখে কাউকে না বলতে ভয়ও দেখাত তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় কন্যা শিশুটি ঘরে ফিরে এলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারতেন না বাবা। মেয়েকে

তবে শেষ পর্যন্ত মেয়ের মুখে সব ঘটনা শুনে থানায় মামলা করে তার পরিবার।

পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় প্রথম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন তার বাবা।

শিশুর মা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আইসক্রিম খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ওই গ্রামের মাঠে নিয়ে নির্যাতন চালায় বিপ্লব হোসেন (১৬) নামে এক যুবক।

তিনি জানান, পরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে তার পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তাকে গ্রামের মাঠে পাওয়া যায়। মেয়েটি বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গত ১৫ দিন আগে বিপ্লব ও একই গ্রামের সবুজ তাকে নির্যাতন করে। কয়েক দিন ধরে মেয়েটির রক্তক্ষরণ হলে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাও করিয়েছেন তারা।

শিশুটির পিতা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। টাকা না থাকার কারণে আমরা ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারিনি। পরে গত বৃহস্পতিবার ওই ঘটনা আবার ঘটলে আমরা বুঝতে পারি। মেয়েটিকে চাকু দিয়ে হত্যার ভয় দেখানোর কারণে সে কিছু বলেনি। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে তিনি আরো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত