শঙ্খের ভাঙনে বিলীন ১৮ ঘর হুমকিতে শতাধিক পরিবার

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ১১:২১ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নে আবারও শঙ্খের ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে ওই ইউনিয়নের শাহারপাড়ায় ১৮টি বসতঘর তলিয়ে গেছে নদে। যদিও এর আগে ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে বর্ষায় ওই স্থানের অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, গত কয়েক বছরে শঙ্খ নদের তীব্র ভাঙনে উপজেলার বারখাইনের শাহারপাড়া ও জেলেপাড়ার অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের মুখে রয়েছে মসজিদ, মন্দিরসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব বাড়িঘরে জোয়ারের পানি ওঠানামা করছে। এতে বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে খরস্রোতা শঙ্খের ভাঙনে তৈলারদ্বীপ শাহারপাড়ার প্রায় ২০০ মিটার এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার নুর মোহাম্মদ, আবুল বশির, জুনু মিয়া, রুবি আক্তার, নুরুল আলম, রবিজা খাতুন, এনাম উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, আবদুস সালাম, নুরুল ইসলাম, আবদুল আলিম, মারিফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, বাচা মিয়া, আনোয়ার মিয়া, মোহাম্মদ মিয়ার বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া আরও অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নাজিম উদ্দিন বলেন, গত বুধবার সকালে তার পাকা ঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় পরিবার পরিজন নিয়ে কোনোরকম জানে রক্ষা পান। এভাবে ১৮টি বসতঘর নদীতে চলে গেলেও কোনো ধরনের সাহায্য তাদের কপালে জুটেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উপকূল সুরক্ষায় সরকারের ২৮০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানের ৫০০ মিটার এলাকায় উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধসহ জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই এলাকার অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অলি আফাজ চৌধুরী বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ বসানো হবে। চলছে প্রতিরোধ কার্যক্রম।

বারখাইনের ইউপি সদস্য আজিজুল হক বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। শুধুমাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই আজ বারখাইনের শাহারপাড়া ও জেলেপাড়ার অর্ধশত পরিবার হুমকির মুখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত