রাফির জিপিএ ৫ পেতে বাধা হতে পারেনি দৃষ্টিহীনতা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

সাইফুদ্দিন রাফির বয়স তখন তিন বছর। খেলার সময় অসাবধানতাবশত চোখে চুন পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। সেই থেকে অন্ধত্বকে সঙ্গী করে পথচলা শুরু। তার এ প্রতিবন্ধকতা শিক্ষাজীবনে তেমন বাধা হতে পারেনি। রাফির অদম্য ইচ্ছাই শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সাফল্যের চাবিকাঠি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়ও সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন, পেয়েছেন জিপিএ ৫।

পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের মৃত আজহার উদ্দিন মাস্টারের একমাত্র ছেলে রাফি। পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্যের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। পরিবারের দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রাফি সবার ছোট।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাফি পিইসি, জেএসসি, এসএসসিতেও জিপিএ ৫ পেয়েছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসারের হাল ধরেন স্কুলশিক্ষিকা বড় বোন আঁখি। চালিয়ে নেন অদম্য ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচও।

আঁখি জানান, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর রাফিকে পড়াশোনা নিয়মিত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। সে কোনোদিন ক্লাস মিস করেনি। আমার ভাইয়ের এই ফলাফলে আমরা খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। আজ আমার স্কুলশিক্ষক বাবা বেঁচে থাকলে তিনি অনেক খুশি হতেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাইবোনকে বোঝা হিসেবে না নিয়ে তার মেধা ও মননের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই সে হতে পারে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ।’
মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া কঠিন ব্যাপার। তার ওপর তার সামনে ছিল অন্ধত্বের মতো একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাফি সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ সাফল্য।
রাফির  ফলাফলে  মুগ্ধ ও গর্বিত পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার জন্য আমাদের কলেজে ব্রেইল বইয়ের সংকট আছে। তারপরও রাফি খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করত। তবে সে সব সময় ক্লাসে উপস্থিত থাকত।’

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রাফি বলেন, ‘আমার এ সাফল্যের জন্য আমি আমার বাবা, বড় বোন, কলেজ শিক্ষক ও আমার বন্ধুদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আমি আরও পড়াশোনা করে ইংরেজি বিষয়ে লেকচারার হতে চাই। তার আগে এখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আমি অনেক আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত