বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন আলোচিত রিফাত হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর শুরু থেকেই এমপি শম্ভু এবং তার ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে এ মামলায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করে আসছেন।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর শনিবার দুপুরে আসলামকে মিন্নির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
কিন্তু রাতেই বরগুনার সদর রোডের এমপি শম্ভুর ব্যক্তিগত ল’ চেম্বারের পেছনের একটি কক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামকে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে বরগুনা বারের সভাপতি আবদুর রহমান নান্টুও ছিলেন।
এর একদিন আগে গত শুক্রবার মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “আমার মেয়ে জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এ সবকিছুই শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে সেভ করার জন্য আমার মেয়েকে বলি দেওয়া হচ্ছে।”
ল’ চেম্বারের কক্ষে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এমপি-পুত্র সুনাম দেবনাথ ও বরগুনার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তারুজ্জামান বাহাদুর। তারা কক্ষের ভেতরে প্রবেশের পর ভেতর থেকে সুনাম কক্ষের দরজা আটকে দেন।
এমপির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আসলাম বলেন, “আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্যের কাছে আসতেই পারে। এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।”
সংসদ সদস্য তাদের ডেকেছিলেন নাকি তারা ইচ্ছা করেই দেখা করতে গেছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমপি বারের সভাপতিকে ফোন দিয়েছিলেন, তিনি আমাকে জানানোর পর আমি সভাপতির সঙ্গে এসেছি।”
জানতে চাইলে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, “আপনাদের বুঝতে আর কিছু বাকি আছে?”
মিন্নির আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আসলাম এমপির সঙ্গে কোনোভাবেই সাক্ষাৎ করতে যেতে পারেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অন্য আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে মিন্নির আইনজীবী কেন দেখা করতে এসেছিলেন- জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, “তারা চা খেতে এসেছিলেন।”
প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তখন তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেও পারেননি।
গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পাঁচজন থেকে ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হামলাকারীদের কয়েকজন এমপি শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের অনুসারী বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর থেকে মিন্নির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সামাজিক মাধ্যমে সরব দেখা গেছে তাকে।
