মে মাসে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতি এখনো অস্বস্তিকর সময় পার করছে। জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক পত্রিকা ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের মন্ত্রিসভার দুই সদস্যের ওই ভিডিও থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন দেশটির ৯৪ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।
তিনজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি লিখেছে, সরাসরি কিংবা অন্য কোনোভাবে ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণ রাখতে মাহাথিরের নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা আছে। তথাকথিত ওই ভিডিওটি তিনি এখন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মালয় ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আওয়াং আজমান আওয়াং পাই বলছেন, ‘এখানে মাহাথিরের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত আছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নিজের দখলে রাখতে চান।’
‘মাহাথির সারা জীবন প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তিনি তার ছেলেকে উত্তরসূরি করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু এখনি সেটি করার সুযোগ পাচ্ছেন না। ভিডিওতে যাদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে তারা ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার।’
২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৩ সালে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মাহাথির। এরপর ৯২ বছর বয়সে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন। যে দলের হয়ে এর আগে পাঁচটি নির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি, ভোটযুদ্ধে লড়েন তারই বিরুদ্ধে।
ওই নির্বাচনে তার একসময়ের শিষ্য নাজিব রাজাককে পরাজিত করেন। তার দল ‘ইউনাইটেড মালয়িস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন’কে হারিয়ে এক সময়ের প্রতিপক্ষ পাকাতান হারাপান কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এখন।
আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুত দিয়ে মূলত ক্ষমতায় আসেন তিনি। কিন্তু দিনকে দিন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে স্পষ্ট করে কিছুই বলতে চাইছেন না।
আর এতেই নির্বাচনের কয়েক বছর যেতেই তার দলে ভাঙনের সুর বেজেছে। এর ভেতর গত মে মাসে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।
সেখানে দেখা যাচ্ছে, সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েছেন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মসূচিবিষয়ক মন্ত্রী আজমিন আলী। আনোয়ার ইব্রাহিমের পিপলস জাস্টিস পার্টির দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হলেন আজমিন। প্রধানমন্ত্রী পদে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয় তাকে। দলেও দুজনের দুটি ভাগ আছে। যদিও এই ভিডিওচিত্রের সত্যতা নির্ণয় করা এখনো সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত করছে। সব পরিষ্কার হওয়ার আগেই সুযোগ বুঝে আনোয়ার ইব্রাহিমকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন মাহাথির।
মালয়েশিয়ায় সমকামিতা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজনীতিতে এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল আনোয়ার ইব্রাহিমকে দিয়ে। এই অভিযোগেই তাকে কারাগারে আটকে রেখেছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ ও নাজিব রাজাক। শেষে আনোয়ার সমকামিতার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও, রাজনীতিতে এর ব্যবহার বন্ধ হয়নি।
