ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত নারী স্বামীর 'ষড়যন্ত্রের শিকার'

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ১০:২৩ পিএম

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার আত্মীয়রা বলছেন, ওই নারী প্রাক্তন স্বামীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। 

ঘটনার পাঁচ দিন পর নিহত ওই নারীর স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণপিটুনিতে নিহত ওই নারীর সালমা বেগম (৩৭)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার মুসলিমাবাদ গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে এবং সাভার পৌর এলাকার ইমান্দিপুর মহল্লার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এমারত হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে তার পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতের চাচা কোহিনূর ইসলাম জানান, তার ভাতিজি সালমার সঙ্গে সাভারের ইমান্দিপুর এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুরের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। ১০-১২ বছর আগে মিজানুর তার ভাতিজিকে ডিভোর্স দিয়ে আবারো বিয়ে করে।

তবে মিজানুর তাদের তিন মেয়ে মিতা, মনিকা ও মিসকাতকে তার কাছেই রেখে দেয়। আর সালমা ডিভোর্সের পর থেকে মানিকগঞ্জে সিঙ্গাইরের মুসলিমাবাদ এলাকায় তার বাবার বাসায় থাকত এবং মাঝেমধ্যেই মেয়েদের দেখতে সাভারে মিজানুরের বাড়িতে যেত।

কোহিনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, এঘটনায় স্বামী মিজানুর ও তার স্বজনরা সালমাকে ছেলেধরা অজুহাতে গণপিটুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। সালমা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল বলেও জানান তিনি।

নিহতের মা বছিরুন খাতুন বলেন, শুক্রবার সকালে তার মেয়ে সালমা মেয়েদের দেখার জন্য গ্রামের বাড়ি মোসলিমাবাদ থেকে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেদিন রাতে সালমা সিংগাইরের ধল্লা এলাকায় বোনের বাসায় থেকে শনিবার সকালে সাভারে যায়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে আমরা জানতে পারি শনিবার সাভারের তেঁতুলঝোড়ায় এলাকায় একটি বাসা দেখতে গেলে ছেলেধরা সন্দেহে সালমাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা।

তিনি আরও বলেন, সালমার স্বামী মিজানুর দীর্ঘদিন বিদেশ থেকে কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছে। এর আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে মেয়েদের স্বামীর বাড়িতে রেখে সালমা বাড়িতেই থাকত। তবে মাঝেমধ্যে সে তার মেয়েদের দেখতে সাভারে গেলে মিজানুরের দ্বিতীয় স্ত্রী সালমাকে প্রচণ্ড মারধর করত।

গত এক মাস আগেও সালমা মেয়েদের দেখতে গেলে মেরে তার মাথা ফাটিয়ে দেয় দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।

নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এমারত হোসেন আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামী মিজানুরের বাড়ির দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা থাকার কথা নয়।

তবে নিহত সালমা বেগম গত ২০ জুলাই (শনিবার) দুপুরে তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বাসাভাড়া নিতেই গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায়  ২১ জুলাই রাতে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ শ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত