হুজুরের কথা শোনা ‘ফরজ’ বলে ১১ ছাত্রীকে যৌন হয়রানি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ০৭:১২ পিএম

মাদ্রাসা ছাত্রীদের যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তার কথিত বড় হুজুর মোস্তাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

গত তিন বছরে ১১ মাদ্রাসা ছাত্রীকে ভুয়া ফতোয়া দিয়ে ধর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ‘বড় হুজুর’ মোস্তাফিজুর রহমান।

“হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুণাহ হবে। হুজুরের কথা না শুনলে জাহান্নামে যেতে হবে” এমন আরও নানা ধরনের ফতোয়া দিয়ে ছাত্রীদের সাথে সে অনৈতিক কাজ করতো বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে।

শনিবার চারজন ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার দুপুরে নির্যাতিত ছাত্রীদের পক্ষ থেকে একজনের অভিভাবক বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ সিও কাজী শামসের উদ্দিন।

আটক মোস্তাফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। গত ছয় বছর যাবৎ তিনি মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন।

র‌্যাব ১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান,  প্রাথমিকভাবে চারজনকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে এগারোজনকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিজের মনগড়া মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে, তাবিজ দিয়ে পাগল করা ও পরিবারের ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে আট থেকে পনেরো বছর বয়সী এগারো ছাত্রীকে তার ব্যক্তিগত রুমে নিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। নিজের নিকট আত্মীয় এক শিশু ছাত্রীকেও সে এসব কৌশল অবলম্বন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে।

মো. আলেপ উদ্দিন আরো বলেন, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান একটি ভুয়া হাদিস শুনিয়ে এবং সে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে ছাত্রীদের বোঝাতেন যে অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়াও বিয়ে হয়। এভাবে সে কয়েকজনকে বিয়ে করেছেন এবং সহবত শেষে তিনি নিজেই আরেকটি ফতোয়া জারি করতেন। ‘তালাক’ হয়ে গেছে এমন ফতোয়া জানিয়ে কোনো একটি অপবাদ দিয়ে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিতেন। এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগের কথা তিনি স্বীকারও করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত