ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনে ওষুধ ক্রয়ের নামে সরকারের মন্ত্রী ও মেয়ররা জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর তামাশা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার সকালে নয়াপল্টন এলাকায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার দুই সিটি মেয়র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, অথচ সরকার প্রধান দেশের বাইরে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ ক্রয়ের নামে সরকারের মন্ত্রী ও মেয়ররা জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর তামাশা শুরু করেছে। তামাশা বন্ধ করুন, জনগণকে নিয়ে পরিহাস বন্ধ করুন।”
তিনি বলেন, “এই অকার্যকর সরকার দেশের সাধারণ জনগণকে পদে পদে মৃত্যুর ফাঁদে ঠেলে দিয়েছে। জনগণ বন্যায়, সড়ক দুর্ঘটনায়, ভেজাল খাদ্যে, বিনা কারণে গণপিটুনিতে, আগুনে পুড়ে, প্রকাশ্যে জবাই হয়ে, নৃশংস ধর্ষণের শিকার হয়ে এবং ক্রসফায়ারে গুলি খেয়ে মৃত্যুসহ নানা মৃত্যুফাঁদে নিপতিত।”
এসময় বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভয়াবহ অসুস্থতার পরও এই মিডনাইটের সরকার অমানুষের মতো আচরণ করছে। তার পছন্দমতো চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে দেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “৭৪ বছর বয়সী ও শারীরিকভাবে চরম অসুস্থ একজন নারীর আইনের স্বাভাবিক গতিতেই জামিন পাওয়ার কথা, কিন্তু সরকার তার জামিনে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। তার জামিনের তারিখ নিয়ে টালবাহানা করা হয়।”
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “বিচার বিভাগও সরকারের হুকুম তামিলে ব্যস্ত। এহেন কোনো কাজ নেই যে, এই সরকার তার মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে না। এমন হিংস্র আচরণের উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল।”
মিছিলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
