মোবাইলে নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোবট তৈরি করল কুবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০৬:১০ পিএম

দুই মাসের কম সময়ে মাত্র ৩৭ হাজার টাকায় মানুষের মতো কথা বলতে ও সামনে-পিছে চলাচলে সক্ষম রোবট তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী।

দেশের চতুর্থ এই মানব রোবটটির নাম ‘সিনা’। রোবট সিনা ১০৫৩ লাইনের আর্ডুইনো কোড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। যাকে মোবাইল সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

দুজন সহপাঠীর সহযোগিতায় রোবটটি তৈরি করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সনজিত মণ্ডল। সহযোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সাঈয়েদুর রহমান ও আইসিটি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র জুয়েল নাথ।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) অর্থায়নে ও কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের সহায়তায় মাত্র দুই মাসে রোবটটি তৈরি করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে রোবটটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে হস্তান্তর করা হয়।

টিমটির দলনেতা সনজিত মণ্ডলের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামারী গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই রোবট তৈরির স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় হয়ে ওঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে টিউশনির টাকা দিয়ে চলতে হতো তাকে। টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে একসময় ছোট রোবট তৈরি করেন। তা নিয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশও নেন। কুমিল্লায় ভাড়া বাসায় নিজেই ল্যাব তৈরি করেন তিনি। সারা দিন ক্লাস আর সন্ধ্যায় টিউশনি করিয়ে রাতে ল্যাবে কাজে মগ্ন থাকতেন তিনি। অবশ্য ল্যাবের ড্রিল মেশিনের শব্দে বাড়ি ছাড়ার নোটিশও পায় সে। কিন্তু দমে যাননি। কাজ চালিয়ে যান। অবশেষে ছোটবেলার স্বপ্নকে সত্যি করে তৈরি করেন রোবট ‘সিনা’।

রোবট তৈরি টিমের সদস্যরা বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল রোবট তৈরি করার। আমাদের সায়েন্স ক্লাবের মাধ্যমে সুযোগটি এসে যায়। বার্ডের অর্থায়নে আমরা রোবটটি তৈরি করি। অর্থও বেশি ছিল না। সামনে যদি সময় ও অর্থ বাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে আমরা আরও ভালো করব।

টিমের সহযোগী আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল নাথ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন আমরা টানা রোবটটি তৈরির কাজ করেছি। অনেক সময় সারা রাত কাজ করতে করতে ছাদেই ঘুমিয়ে যেতাম। কড়া রোদে ঘুম ভাঙলে আবার রুমে গিয়ে কাজে লেগে যেতাম।

রোবট ‘সিনা’কে বর্তমানে কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির লাইব্রেরিতে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় উৎসুক জনতা রোবটটি দেখতে এখানে ভিড় জমায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত