অধিকৃত কাশ্মীরের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেখানে নতুন করে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েনের কয়েকদিন পর এ ঘটনা ঘটল।
সোমবার রাত দেড়টার দিকে কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে গৃহবন্দি করা হয়।
বিবিসি জানায়, কী কারণে আচমকা তাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি।
এদিকে পুরো অঞ্চল জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং অনলাইন পরিষেবায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর আর জম্মু অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সব স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শ্রীনগর শহরকে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় পুলিশ চৌকি তৈরি করা হয়েছে।
জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় গত সপ্তাহে পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীর ছেড়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় রাজ্য প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে আচমকা বন্ধ হয়ে যায় ভারতের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু অমরনাথের তীর্থযাত্রা।
অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনসহ পুরো অঞ্চলে এমন কড়াকড়ি আরোপের ফলে ধারণা করা হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে নিয়ে পুরোপুরি দিল্লির আয়ত্তে নিয়ে আসা হবে। বাতিল করা হবে রাজ্যের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ দেওয়া ৩৫এ আর ৩৭০ ধারা।
সংবিধান থেকে ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিল করে দেওয়াই ক্ষমতাসীন বিজেপির অন্যতম এজেন্ডা। এই অনুচ্ছেদের ফলে এ অঞ্চলের মানুষই এখানে জমি কেনাবেচা করতে পারবে শুধু। অন্য রাজ্যের মানুষের সেই সুবিধা নেই।
বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়া এবং জঙ্গি হামলার গুজব ছড়ানোর পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক নেতার রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর সবগুলো রাজনৈতিক দল রবিবার একটি সর্বদলীয় বৈঠকেও মিলিত হয়।
ওই বৈঠকে যে প্রস্তাব পাস করা হয় সে প্রসঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, “ধারা ৩৫এ আর ৩৭০ বা জম্মু-কাশ্মীরের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখে অন্য যেসব সাংবিধানিক রক্ষাকবচ আছে, সেগুলো বজায় রাখতে সব দল একসঙ্গে কাজ করবে।”
এদিকে সোমবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একটি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, যেখানে কাশ্মীর নিয়েই মূলত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
