নুসরাত হত্যা

‘আসামিরা স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন’

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০১:২০ এএম

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম। রবিবার আদালতে তিনি এ কথা জানান।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমের সাক্ষ্যগ্রহণ গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়। ওইদিন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী কার্যদিবস গতকাল বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিনও তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি।

আজ (সোমবার) বাকি সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। এ পর্যন্ত মামলার ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। মামলা মোট সাক্ষী ৯২ জন। নম্বর তালিকায় শাহ আলম শেষ সাক্ষী।

জবানবন্দিতে শাহ আলম বলেন, ‘আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।’ তিনি জানান, শুরু থেকে আসামিদের ধরতে গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন, মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীম, রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে মকসুদ আলম, বসিলা থেকে হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আসামিদের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, কয়েকজন আসামির দেওয়া তথ্যে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ আলম জানান, আসামিরা আদালতে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তার সঙ্গে তদন্তকালে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার নুসরাত হত্যা মামলায় জব্দ করা নানা আলামতের বিষয়ে আদালতকে বিস্তারিত জানান তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, মামলার সাক্ষ্য কার্যক্রম একদম শেষের দিকে। এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অভিযোগপত্র প্রদানকারী শাহ আলমের সাক্ষ্য শেষে যুক্তিতর্ক শুরু হবে।

চলতি বছর ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ওই মাদ্রাসাকেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত