কক্সবাজারের পেকুয়ায় মশারি টাঙাতে দেরি করায় শিক্ষক স্বামীর গলা চেপে হত্যার চেষ্টায় আহত হয়েছেন স্ত্রী। আহত স্ত্রী শামীমা জন্নাত (২৬) পেকুয়া জিয়াউর রহমান কলেজের শিক্ষক নাজেম উদ্দিনের স্ত্রী ও চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল এলাকার নুরুল হোসেনের মেয়ে।
অভিযুক্ত শিক্ষক একই উপজেলার ডুলহাজারা মাইচ পাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। শামীমা জন্নাত পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে।
রবিবার রাতে সিকদার পাড়া এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় এঘটনা ঘটে।
শামীমা জন্নাত সাংবাদিকদের বলেন, নাজেম উদ্দিনের সঙ্গে আমার দীর্ঘ ৮বছরের সংসার। দু’টি মেয়ে সন্তান রয়েছে আমাদের। বিয়ের পর থেকে সে আমাকে মারধর করতো। সামান্য বিষয় নিয়ে সে উত্তেজিত হয়ে অশ্লীল ভাষায় মন্দ কথাও বলত।
তিনি জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে আমার শরীর একটু অসুস্থ ছিল। ঘুমিয়ে পড়ছিলাম। বিকেল ৪টার
দিকে স্বামী বাসায় আসেন। তিনি নাশতা সেরে বলেন, তাকে মশারি টাঙিয়ে দিতে। মশারি টাঙাতে আমার একটু দেরি হয় আমার। এরপর শুরু করেন অশ্লীল ভাষায় গালি।
একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালায় স্বামী নাজেম উদ্দিন। আমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
তিনি জানান, হাসপাতালে এসেও তিনি হুমকি দিয়ে যান। মারধর ও হুমকির বিষয়টি আমি লিখিত আকারে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও থানাকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক নাজেম উদ্দিন বলেন, স্ত্রী শামীমা জন্নাত সবসময় উগ্র আচরণ করেন। আমি ঘটনার দিন কলেজের কাজ শেষ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। বাসায় আসার পর সে কোনো কারণ ছাড়া উগ্র আচরণ শুরু করেন। তারপরও বেশি কথা বলা শুরু করলে কম কথা বলার জন্য গলাটা টিপে ধরি। তাতে গলায় নখের আঁচর লেগে রক্ত ঝরেছে। তবে তা বড় কিছু নয়।
পেকুয়া জিয়াউর রহমানের কলেজের সভাপতি শফওয়ানুল করিম বলেন, স্ত্রীর বাবার পক্ষ থেকে মারধরের বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষ পেয়েছে। তদন্ত করে দোষী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, শামীমা জন্নাত নামে এক নারী লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
