জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাটের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বামপন্থী শিক্ষকদের জোট সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে পেরেছি। আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
উপাচার্য কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা উল্লেখ করে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘দুর্নীতির ব্যাপারে জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুজন সাংবাদিক যখন এ বিষয়ে জানতে উপাচার্যের কাছে যান, তখন উপাচার্য তাদের লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া নিপীড়নমূলক অধ্যাদেশের ভয় দেখান। আমরা এ ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সঙ্গে সঙ্গে ধারা দুটি বাতিল দাবি করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রনু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান এবং অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তাদের কার্যক্রম শুরু করার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গাছ কাটা শুরু করে। উপাচার্য জনমতকে উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় তার ইচ্ছা বাস্তবায়নের হুকুম দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক মনোভাবের কারণেই সিন্ডিকেট, ডিন ও অর্থ কমিটিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তাই আমরা অনতিবিলম্বে অনির্বাচিত পর্ষদসমূহের নির্বাচন দাবি করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ ও সহকারী অধ্যাপক বিবি হাফসা প্রমুখ।
