আফগানিস্তান থেকে আগামী ৫ মাসে ৫ হাজারের অধিক সেনা প্রত্যাহার করে নিবে যুক্তরাষ্ট্র।
দীর্ঘ আলোচনার পর তালেবান নেতাদের সঙ্গে একটি খসড়া চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে ওয়াশিংটন। এর অংশ হিসেবে আফগানিস্তান থেকে এসব মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
বিবিসি জানায়, আফগান টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মধ্যস্থতাকারী জালমে খালিলজাদ সোমবার বিষয়টি জানান। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত এই চুক্তি নিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো সংবাদমাধ্যমে তিনি কথা বলেন।
তিনি জানান, চুক্তি সম্পাদিত হলে আগামি ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানের পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। বর্তমানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন আছে।
চুক্তিটি এখন মার্কিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে । তার সম্মতি পেলেই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারে আর কোনো বাধা থাকবে না।
এদিকে টিভিতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার হওয়ার সময় ব্যাপক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কাবুল। এতে অন্তত ১৬ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক লোক।
তালেবানরা এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। বিদেশিদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তিচুক্তির খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জালমে খালিলজাদ। আফগান প্রেসিডেন্টকে প্রস্তাবটির খুঁটিনাটিসহ বিস্তারিত জানিয়েছেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারী।
দেশটিতে ২০০১ সালে মার্কিন অভিযানের পর এ মুহূর্তে তালেবানরা আরও অধিক অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও আফগান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে রাজি না তারা। তালেবানরা মনে করে, আফগান সরকার যুক্তরাষ্ট্রেরই পুতুল সরকার।
