চাঁদের বুকে চন্দ্রযান-২ ল্যান্ডার বিক্রমের সফট ল্যান্ডিং চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কেটে গেছে দুই সপ্তাহ। এই ১৪ দিন ধরে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মরিয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।
চন্দ্র দিবস হিসেবে এবার চাঁদে আঁধার ঘনিয়ে আসায় বিক্রমের সঙ্গে যে আর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে না, তা একপ্রকার স্পষ্ট বলে বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এই সময়।
ইসরো জানিয়েছে, ১৪ দিনের মিশন লাইফ নিয়েই চাঁদে গিয়েছিল ল্যান্ডার বিক্রম। কিন্তু চাঁদের বুকে নামার আগ মুহূর্ত বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর বিজ্ঞানীদের।
তখন ইসরোর এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘অরবিটারে থাকা ক্যামেরায় তুলে পাঠানো ছবি থেকে বোঝা যাচ্ছে চন্দ্রপৃষ্ঠ ছোঁয়ার আগে ল্যান্ডার বিক্রম দ্রুত অবতরণ করে। ল্যান্ডারটি অক্ষত রয়েছে, সেটি ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। শুধু হেলে পড়ে রয়েছে এটি।’
এরপর ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মরিয়া চেষ্টা চালায় ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এজন্য তাদের হাতে সময় ছিল বিক্রমের ১৪ দিনের মিশন লাইফ।
এক চন্দ্র দিবসের সময়সীমা পৃথিবীর হিসেবে ১৪ দিন। এর পর আবার ১৪ দিন ধরে চলে চন্দ্ররাত। রাত নেমে আসার পর সূর্যালোকের অভাবে প্রয়োজনীয় শক্তি উত্পাদন করতে পারবে না বিক্রম। এছাড়া চন্দ্ররাতে তাপমাত্রা মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। ফলে এই সময় ল্যান্ডারের মেশিন ঠান্ডায় জমে যেতে পারে।
শনিবার থেকেই রাত নামছে চাঁদে। এর ফলে বিক্রমের সঙ্গে যে আর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট।
গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৮ মিনিটে শুরু হয় চন্দ্রযান-২ বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। কিন্তু চাঁদের মাটি থেকে ২.১ কিলোমিটার ওপরে থাকার সময় বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
পর দিন ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআইকে ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন বলেন, ‘বিক্রম এখন চন্দ্রপৃষ্ঠের কোন জায়গায় আছে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। ল্যান্ডারের একটি থার্মাল ইমেজেও তোলা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বিক্রমের সঙ্গে আমরা এখনো যোগাযোগ করতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই আমরা বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হব।’
এই অভিযান সফল হলে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কোনো যান অবতরণকারী প্রথম দেশ হিসেবে নাম লেখাতে পারত ভারত। তবে এই যাত্রায় তাদের অপেক্ষা বাড়ল।
