নোবেল জেতার পর প্রথমবার কলকাতায় আসছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ভারতের মাটিতে পা রাখবেন এই অর্থনীতিবিদ। ছেলেকে বরণ করে নিতে ব্যস্ততার শেষ নেই মা নির্মলা দেবীর।
জি নিউজ জানায়, মঙ্গলবার ভারতে নেমে সেদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন অর্থনীতিতে এ বছরের নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ।
তবে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্পের ব্যাপারে একমত নন এই বাঙালি গবেষক। মোদি সরকারের অর্থনীতি নিয়ে খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন তিনি। ফলে নোবেল জয়ের খবরের পর তাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা।
এমন পরিস্থিতিতে মোদির সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে ‘সাবধান’ করেছেন অভিজিতের মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেও অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন, কাজ করেছেন কলকাতার সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর অর্থনীতি বিভাগের সঙ্গে।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার দিনই এমআইটিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় অভিজিৎ বলেন ,‘ভারতের অর্থনীতির অবস্থা বেশ খারাপ। বর্তমান বৃদ্ধির যা হার তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। গত পাঁচ-ছয় বছরে আমরা ভারতীয় অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও বৃদ্ধি দেখেছি। কিন্তু বর্তমানে সেই নিশ্চয়তা নেই’।
অভিজিতের এমন সমালোচনায় ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতৃত্ব। তার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ভাষ্য, অভিজিতের অর্থনীতির চর্চা বামপন্থী ভাবধারা প্রভাবিত। কিন্তু দেশের মানুষ বামপন্থাকে খারিজ করে দিয়েছেন।
বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রাহুল সিনহাও আক্রমণ করেছেন অভিজিৎকে। তিনি বলেন, ‘যাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, মূলত তারাই নোবেল পেয়ে যাচ্ছেন। নোবেল পাওয়ার জন্য এটা কোনো ডিগ্রি কি না জানি না।’
এমন পরিস্থিতিতে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ছেলেকে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছেন মা নির্মলা। ছেলেকে তার পরামর্শ, মোদির সঙ্গে যেন একটু ‘বুঝেসুঝে’ কথা বলেন অভিজিৎ।
প্রসঙ্গত, এ বছর অর্থনীতিতে অভিজিতের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল জিতেছেন আরও দুই অর্থনীতিবিদ, যার মধ্যে এস্থার ডুফো হচ্ছে অভিজিতের স্ত্রী এবং আরেকজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার।
অভিজিৎ ও এস্থার দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক।
