শিশু মো. আরফাতকে মুক্তিপণের আশায় অপহরণ করে তার খালাতো ভাইসহ দুজন। পরে শিশুটি কান্না শুরু করলে তাকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে। হত্যার পর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে দুই খুনি।
রবিবার চকরিয়ায় জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করে হত্যাকারী মগনামা মিয়াজীপাড়া গ্রামের মো. মানিক ও একই ইউপির দরদরীঘোনা গ্রামের রায়হান।
জবানবন্দিতে তারা বলে, শিশু মো. আরফাতকে কাদিমাকাটা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নাশতা করার কথা বলে অপহরণ করে খালাতো ভাই মো. রায়হান। এ সময় তার সঙ্গে ছিল মো. মানিক।
তারা জানায়, বাড়ি থেকে রাস্তা পার হয়ে একটি অটোরিকশা করে পেকুয়া চৌমুহনী আসে তারা। শিশুটি কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলে, খালাতো ভাই রায়হানের বাড়ি যাচ্ছে। মগনামার ফুলতলায় যাওয়ার পর তারা নাশতা করে এবং গাড়ি বদল করে ইজিবাইক নিয়ে মগনামার কাজি মার্কেটে গিয়ে আবারো শিশুকে নাশতা করায়। সেখানে কলা আর পাউরুটি শিশুর হাতে দিয়ে অপেক্ষা করে। আবছা অন্ধকার হলে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন রাস্তা পার হয়ে মগঘোনার রাস্তা হয়ে যাওয়ার সময় শিশু আরফাত বেশ আওয়াজ করে কান্না শুরু করে। ধমক দিয়েও কান্না বন্ধ না হলে নির্জন ধান খেতে গিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে তারা। তখন মানিক হাত-পা ধরে থাকে আর রায়হান গলা টিপে ধরে। আরাফাতের মৃত্যু নিশ্চিত হলে ধান খেতে তাকে রেখে সদর ইউয়িনের গোঁয়াখালীর মানিকের শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। এরপর তারা ফোন দেয় নিহত শিশু আরাফাত ও হত্যাকারী রায়হানের খালা কাউসার বেগমকে। দু’ই হত্যাকারী আরফাতকে ফিরে ফেতে চাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর তারা ঘুমিয়ে পড়ে।
আদালতে দেওয়া তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কামরুল আজম বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার পর অজ্ঞাতনামা একটি অপহরণ মামলা রেকর্ড করি। যে মামলার বাদী হন শিশুর মা রুজিনা আক্তার। এরপর ফোন নম্বরের সূত্র ধরে গোঁয়াখালীর মাতবর পাড়া থেকে রায়হান ও মানিককে আটক করি।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আটকরা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করে। সবশেষে তারা জানায়, শিশুটিকে হত্যা করে মগনামা মগঘোনার একটি স্থানে রেখেছে বলে জানায়। শিশুর পরিবার ও অপহরণকারীদের নিয়ে মগনামা মগঘোনার ফসলি জমিতে অভিযান চালিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশুর মা রুজিনা আক্তার বলেন, আমার বোন কাউসার আক্তার আমাকে জানান ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তারা আমার বুকের ধনকে আগেই মেরে ফেলেছে। এমন নির্মম হত্যা আমরা মেনে নিতে পারছি না। ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। তাদের বিচার আমরা দ্রুত দেখতে চাই।
রবিবার দুপুরের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজার পর শিশুর দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্থানীয় কয়েক হাজার শোকাহত জনতা নামাজে জানাজায় অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ওমান প্রবাসী রুহুল কাদেরের শিশু সন্তানকে অপহরণ করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার লাশটি উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।
